রাবি প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের ভূমিকা ছিল। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকও সরাসরি শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্দোলনে অংশ নেন। তবে সম্প্রতি শিবিরপন্থী একটি ফেসবুক পেইজ থেকে ‘ফিরে দেখা ১৬ জুলাই, মিছিল নিয়ে ছাত্রলীগকে রাবি ক্যাম্পাসছাড়া করেছিল ছাত্রশিবির’ শিরোনামে একটি ভিডিও পোস্ট করার পর সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
চব্বিশের ১৭ জুলাই শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হন। এরপরই ক্যাম্পাস পুরোপুরি শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে আসে। সারা দেশের মধ্যে প্রথম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাত্রলীগমুক্ত হয়, যা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। শুক্রবার, ১৭ জুলাই, এ ঘটনার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘Rajshahi University News24’ নামে শিবিরপন্থী একটি পেইজে ওই দিনের আন্দোলন শিবিরের নেতৃত্বে হয়েছিল বলে প্রচার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা অনেকেই সমালোচনা করেন।
শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শুভ লিখেছেন, ‘…আমি তো জানতাম জুলাই সার্বজনীন। জুলাইয়ে রাবির প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীই একজন যোদ্ধা ছিল। জুলাইটা কী পাপ ছিল? লুঙ্গির তলে থাকা নিজের রাজনৈতিক পরিচয় দিতে না পারা বিড়ালগুলো দেখি বঙ্গবাহাদুর সাজতে আসছে, মালিক সাজতে আসছে।’
আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খান লিখেছেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো আন্দোলন তৈরি করতে পেরেছে এমন ইতিহাস আছে নাকি? এই মুনাফিক গোষ্ঠীর মিথ্যাচার আর নেওয়া যায় না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।
শাখা শিবিরের মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজিব বলেন, ‘আমরা বরাবরই বলে আসছি, চব্বিশের আন্দোলনটি সার্বজনীন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিল। একক কোনো দল বা গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল না। তবে কারও কম বা বেশি ভূমিকা থাকতে পারে। সেই জায়গা থেকে ছাত্রশিবির ওই পোস্টের সঙ্গে একমত নয়। কেউ যদি এ ধরনের মতামত দিয়ে থাকে, সেটি একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করে আমাদের সাংগঠনিক অবস্থান পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেব।’
আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা সাবেক সমন্বয়ক ও রাকসুর বর্তমান জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘ওই সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিবেকের তাড়নায় আন্দোলনে এসেছিল। আমার, শিবিরের বা ছাত্রদলের ডাকে তারা আসেনি। আন্দোলনের শুরু থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এটি ছিল আপামর মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা আন্দোলন। এখানে কোনো রাজনৈতিক দল বা ছাত্রসংগঠনের একক ডাকে কেউ আসেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে শিবিরের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। যদি তারা এটিকে সমর্থন না করে, তাহলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো উচিত।’
পোস্টের বিষয়ে ‘Rajshahi University News24’ পেইজের অ্যাডমিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী জাকির হোসেন তমাল বলেন, ‘আমি এই পেইজে আগের মতো সময় দিতে পারি না। আর এই পোস্টের বিষয়টিও আমার নজরে আসেনি।’ এতটুকু বলেই তিনি কল কেটে দেন।












