জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনি পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়লেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঠাকুরগাঁওয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহিদ আল মামুনের বোন মঞ্চে উঠে ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে নিজের জমানো মাটির ব্যাংক ও কয়েকটি মুরগির ডিম তুলে দিলে আবেগ সামলাতে পারেননি এই প্রবীণ রাজনীতিক।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় এই হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের অবতারণা হয়।
শহিদ আল মামুনের বোন মির্জা ফখরুলের হাতে উপহার তুলে দিয়ে বলেন, ‘আমার ভাইটা বিএনপিকে ভালোবাসত। নির্বাচনের জন্য এই সামান্য দানটুকু গ্রহণ করেন।’
এ সময় মঞ্চেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এই মেয়েটা তার মাটির ব্যাংকের জমানো টাকা নির্বাচনের জন্য দিয়ে দিল। আল্লাহ এই মেয়েটার আকুতি কবুল করুন।’
এর আগে বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি মনে করি না এবারের নির্বাচন কেউ বন্ধ করতে পারবে। দেশের মানুষ জেগে গেছে। এবার সবাই ভোট দেবে- কেউ ঠেকাতে পারবে না। কিছু লোক দুষ্টামি করার চেষ্টা করতে পারে, তবে প্রশাসনও এবার নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়।’
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ভোটকেন্দ্রে পাহারা রাখবেন। যেন কেউ গোলমাল করতে না পারে। হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে।’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৯১ সাল থেকে ৩৫ বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে আছি। একটা লোকও বলতে পারবে না আমি দুর্নীতি করেছি। বাবার জমি-ব্যবসা বিক্রি করেও রাজনীতি করেছি। সততাই আমাদের শক্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ নির্বাচন। এই বয়সে আর নির্বাচন করা সম্ভব নাও হতে পারে। আপনাদের কাছে কি ধানের শীষে একটি ভোট আশা করতে পারি না?’
পথসভায় কৃষকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।’
মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এনজিওর কিস্তির চাপে আপনাদের আর কষ্ট করতে দেওয়া হবে না। সুদের বোঝা বিএনপি নেবে।’
ধর্মের নামে ভোট চাওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কোনো মার্কায় ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে- এমন কথা ইসলাম সমর্থন করে না। সৎ কাজ আর আল্লাহর নির্দেশ মানলেই মুক্তি মিলবে।’
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।












