• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সরকার দেশকে উপসংহারহীন পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করছে: রিজভী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ ৮:০৫
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ ৮:০৫

0209A188 D1C7 45BF 91D1 2B662A32AEA0

সরকার দেশকে উপসংহারহীন পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করছে: রিজভী

নিউজ ডেস্ক

ভোটার বিহীন গণবিরোধী সরকার বাংলাদেশকে উপসংহারহীন পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘সমস্ত অর্থনৈতিক সেক্টর ধ্বংসের পর এবার তাদের কুনজর পড়েছে বৈদেশিক রফতানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত পোশাক শিল্পের দিকে। সরকার অত্যন্ত সুকৌশলে পোশাক শিল্প ধ্বংসের নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে। এমনিতেই শেখ হাসিনার আত্মীয় স্বজন ও দলের লোকেরাও এতো টাকা বিদেশে পাচার করেছে যে, তাদের চৌদ্দ জেনারেশন বসে বসে খেতে পারবে।’

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে ভার্চয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনের নামে তামাশা পুরোদমে চলছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা শুনে ক্ষিপ্ত প্রধানমন্ত্রী, খড়গ হাতে নিয়ে নির্বাচনি মাঠে ‘আদার বনে শিয়াল রাজার মতো’ ছুঠে বেড়াচ্ছেন। তিনিই সব, তাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে। সুতরাং যারা সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের কথা বলে তাদের তিনি ব্যক্তিগত দুশমন হিসেবে বিবেচনা করেন। আর সেজন্য বিরোধী দলের অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবির আন্দোলন দমাতে নানা পন্থা অবলম্বন করেছেন যেগুলি নির্মম পৈশাচিক। আন্দোলনরত নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের পর রিমান্ড, জার্মানীর ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের’ অতাচারের কাহিনীকেও হার মানাবে।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘দল পরিবর্তনের জন্য কারান্তরীণ গণতন্ত্রকামী রাজনীতিবিদদের চরম অসম্মানজনকভাবে তাদের সম্মতি আদায়ের জন্য জুলুম করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। রিমান্ডে নির্যাতন করে তরুণ নেতা-কর্মীদের মিথ্যা স্বাক্ষ্য আদায়ের চেষ্টা চলছে। বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের নিপীড়ন, নির্যাতন, হেনস্তা ও হেয় করেও এদের পরাস্ত করতে না পেরে উৎপীড়নের পথ অবলম্বন করছে। সরকার আইনপ্রয়োগকারী র‌্যাব-পুলিশ ব্যবহার করে রাজনৈতিক দলের নীতি-নৈতিকতা অধঃপতনের দিকে ঠেলে দেওয়ার এক সুগভীর নীলনকশা চালিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘তবে শেখ হাসিনার তাতে কোনো লাভ হবে না। বিএনপিসহ গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদায়ের আন্দোলনে অটুট বন্ধনে আবদ্ধ।’

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা একটা কার্যকর, শক্তিশালী রাষ্ট্র চায় না। তাঁর লক্ষ্য দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা। দেশকে নিজের জমিদারি মনে করা শেখ হাসিনার মধ্যে একটা মালিকানালিপ্সা, আধিপত্যবোধ, শঠতা ও বল প্রয়োগের প্রবণতা প্রবল। আর এ কারণেই তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব অন্যের হাতে ক্রমান্বয়ে তুলে দিচ্ছেন।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘ক্রেতাদের মতামত উপেক্ষা করে সরকার সমর্থক সুবিধাবাদী গোষ্ঠী শোষণ নীতির পক্ষে সরকারের অবস্থান, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী দমনে হত্যা নিষ্পেষন, অপিরনামদর্শী সিদ্ধান্ত এবং প্রতিবেশী দেশের স্বার্থে এই সর্ববৃহৎ শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নেয়া হয়েছে। শ্রম অধিকার সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন শ্রমনীতি ঘোষণার পর বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রায় অবধারিত বলে আশংকা করছেন মালিকরা। গতকাল পোশাক খাতে আতংকের বিষয়টি মালিকদের সংগঠন বিজেএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেছেন, “নিষেধাজ্ঞা আসলে বিদেশিরা পণ্য নেবে না। ইতিমধ্যে পণ্যের আদেশ দাতারা এমন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন ঋণপত্র খোলার সময়। এমনকি পণ্য জাহাজীকরণের পর নিষেধাজ্ঞা আসলেও পণ্য নেবে না তারা।” ইতোমধ্যে এ খাত ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ব্যবসা হারিয়েছে। পোশাক শিল্পের মালিকদের ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে উদ্ভট পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বালখিল্য প্রদর্শন করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বললেই পোশাক রফতানি বন্ধ হবে না। নিষেধাজ্ঞা দিলে কিছুই হবে না।’

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিলে আমরাও দিবো। এমন পরিস্থিতির মধ্যে লক্ষ লক্ষ গরীবের রুটি রুজির একমাত্র কর্মক্ষেত্র গার্মেন্টস শিল্পের ধ্বংস ডেকে আনছে গণবিচ্ছিন্ন নিশিরাতের সরকার। কারণ দেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৮২ শতাংশ যায় ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোয়। এসব দেশে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে এ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে। মানুষের হাতে ভিক্ষার ঝুলি তুলে দিতে পারবেন শেখ হাসিনা। জনগণ বিশ্বাস করে রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসায় এখন অন্য দেশের হাতে তুলে দিয়ে অবৈধ ক্ষমতায় থাকার গ্যারান্টি চায় অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক এই রপ্তানি খাত গড়ে তুলেছেন। উদ্যোক্তারা নানান পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে শিল্প গড়ে তুলেছেন। আর এই সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য বাংলাদেশের সমস্ত কলকারখানা, মানুষের পেটে লাথি মারার চিন্তা করছে। বাংলাদেশের বাজারকে হুমকির মধ্যে ফেলছে। সুতরাং আগামী একতরফা নির্বাচন শুধু শেখ হাসিনার ক্ষমতার নবায়ণ নয়, বাংলাদেশকে ধ্বংস করার লাইসেন্স। এই সরকার এভাবে জনগণের পেটে যে লাথি মারছে তা না, তারা পুরো দেশ নিয়ে বাজি ধরছে।’

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে শেখ হাসিনা গং বোকা ভাবেন, বিদেশিদেরকেও তারা বোকা ভাবতে শুরু করেছেন। তারা ভেবেছে এভাবে সবার চোখে ধুলো দেওয়া যাবে। বাংলাদেশের সকল মানুষ জানে, এমনকি যারা আওয়ামী লীগ করে তারাও জানে যে এই সরকার দেশের মানুষের সঙ্গে সর্বোচ্চ প্রতারণা করছে। বাংলাদেশের সকল মানুষকে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য রাজপথে নামতে হবে। আমরা বারবার বলেছি একতরফা নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে, বিপর্যস্ত করবে। দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে। এই পাতানো নির্বাচন কেবল বয়কট নয় গণ-প্রতিরোধের মাধ্যমে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে একটা সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা নিশ্চিত করতে হবে।’

রিজভী আরও বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের আন্দোলন, এই শুধু বিএনপির নয় এই আন্দোলন গণতন্ত্রকামী সকল রাজনৈতিক দল ও শ্রেণীপেশার মানুষের। জন আকাঙ্খার সাথে সম্পৃক্ত এই আন্দোলন। গণতন্ত্র হারা মানুষ আজ লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত। মানুষের মনের মঙ্গলকর ও কল্যাণকর প্রবণতাগুলোর বিকাশ ঘটাতে হলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ বির্নিমাণ অপরিহার্য। গণতন্ত্র হচ্ছে জীবনের বিপুল সম্ভাবনার ইঙ্গিতবাহী। গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে চিন্তা প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তি ও শৃঙ্খলা এবং মনুষ্যত্বের বিকাশ সাধিত হয়। দেশে মানুষের জীবন, সমাজ, রাষ্ট্র অনেক সুন্দর হতে পারে সার্বজনীন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে।’


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com