• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

রাজনীতি

উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস আর নয়: মাহদী আমিন

প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ৩:৪১
আপডেট: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ৩:৪১

উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস আর নয় মাহদী আমিন
 

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
উন্নয়নের নামে কোনোভাবেই প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা যাবে না উল্লেখ করে অতীতে মেগাপ্রকল্পের নামে পরিবেশের যে অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করা হয়েছে, তা থেকে অবিলম্বে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন

তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ ও আগামী প্রজন্মের জন্য নির্মল বাতাস এবং বাসযোগ্য স্বদেশ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিতে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সায়েন্স পলিসি ডায়ালগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট-লিভড ক্লাইমেট পলিউট্যান্টস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা নগণ্য হওয়া সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তাই ক্ষতিপূরণ তহবিল বা ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ কার্যকর করা এবং পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে কাজ করছে সরকার।

বিদ্যমান জ্বালানি সংকট নিরসন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় জ্বালানি খাতে বহুমুখী পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎকে (সোলার এনার্জি) অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি ভবনে সৌরশক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প এবং পরিবহন খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইলেকট্রিক ভেহিকেল বা পরিবেশবান্ধব যানবাহনকে বিশেষ নীতিসহায়তার মাধ্যমে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় শিল্পখাতকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার পাশাপাশি ‘গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি’ এবং ‘লিড সার্টিফিকেশন’-এর আওতা বাড়িয়ে কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ গ্যাসকূপ খনন ও বিভিন্ন বিকল্প উৎসের কার্যকর ব্যবহার জোরদার করা হয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পরিবেশ সুরক্ষায় দীর্ঘ ঐতিহ্য স্মরণ করে মাহ্‌দী আমিন বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে সিএনজির মতো পরিবেশবান্ধব জ্বালানিচালিত যানবাহন প্রবর্তন, ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ এবং পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রসারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বিএনপি সরকারগুলোর আমলে দেশব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন এবং সামাজিক বনায়নের যে সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা আরও বৃহত্তর পরিসরে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

সরকারের পরিবেশবিষয়ক গৃহীত পদক্ষেপ ও অগ্রগতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট রূপকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখননের একটি বৃহৎ কর্মসূচি পুরোদমে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ এবং সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ ও ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব নতুন নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনী স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের যেকোনো কার্যকর উদ্যোগ ও গবেষণায় সরকার সব সময় সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা দেবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন যৌথ অংশীদারত্বকে স্বাগত জানিয়ে মাহদী আমিনবলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করা আমাদের অন্যতম প্রধান জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান এবং নীতি প্রণয়নের বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে।

সেমিনারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম এবং সঞ্চালনা করেন স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোন।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম