• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

জাতীয়

নবায়নযোগ্য জ্বালানির কর ১ শতাংশে নামানোর দাবি

প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬ ৬:৪৬
আপডেট: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬ ৬:৪৬

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানি নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সৌর ও বায়ুশক্তিভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, উচ্চ কর-শুল্ক, নীতিগত বৈপরীত্য এবং অর্থায়নের অভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না। তাই আগামী ১০ বছরের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর কর-শুল্ক প্রতীকী এক শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ২৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আবর্তনশীল তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর গ্রিন লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তায় নবায়নযোগ্য উৎস: চাই বাজেটের নীতিগত পরিবর্তন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) এবং বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)। সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা), ইথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ (ইটিআই), ল-ইয়ার্স ফর এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (লিড) এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে জলবিদ্যুৎসহ দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট স্থাপিত সক্ষমতা মাত্র ১ হাজার ৬৭৯ মেগাওয়াট। অথচ সৌর ও বায়ুশক্তি মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এত বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর ২৭ থেকে ৬১ শতাংশ পর্যন্ত কর ও শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা খাতটির বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে সৌর প্যানেল ও ইনভার্টারের ওপর বর্তমানে প্রায় ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ কর আরোপ করা হলেও জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বিভিন্ন নীতিগত সুবিধা এখনো বহাল রয়েছে। এর ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়। বক্তাদের মতে, এ কারণে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। অন্যদিকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় জাতীয় রাজস্বের মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশেরও কম।

বক্তারা আরও জানান, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকে সৌরবিদ্যুৎ উল্লেখযোগ্য সাশ্রয়ী সুবিধা দেয়। তাদের উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বছরে প্রায় ৩ কোটি ১১ লাখ টাকার জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় সম্ভব এবং একই সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ১৮০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানো যায়। এছাড়া, প্রতি কিলোওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বছরে প্রায় ৩১ হাজার টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে সক্ষম।

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে এ খাতের উন্নয়নে পাঁচ দফা সুপারিশও তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—আগামী ১০ বছরের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর সব ধরনের কর ও শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে ২৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আবর্তনশীল তহবিল গঠন, আবাসিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের জন্য প্রতি কিলোওয়াটে অন্তত ২৫ হাজার টাকা ভর্তুকি প্রদান, কর্পোরেট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (সিপিপিএ) চালু করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ।

এ ছাড়া দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে বৃহৎ ভূমিভিত্তিক প্রকল্পের পরিবর্তে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (এগ্রিভোল্টাইক) এবং জলাশয়ভিত্তিক ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা অব্যাহত রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উপেক্ষা করা হলে দেশ ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ব্যয়, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আমদানি নির্ভরতার দীর্ঘমেয়াদি চক্রে আটকে পড়বে।

বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ মন্তব্য করেন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। এ কারণে সৌর ও বায়ুশক্তিতে বিনিয়োগ সহজ করতে কর-শুল্ক কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

লিডের গবেষণা পরিচালক অ্যাডভোকেট শিমনউজ্জামান বলেন, দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তব বিনিয়োগের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। এই ব্যবধান কমাতে বাজেটে শক্তিশালী নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

ইটিআই বাংলাদেশের পরিচালক মুনীর উদ্দিন শামীম বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় জ্বালানি সার্বভৌমত্বকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাই নির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

বক্তারা সতর্ক করে বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর না করা হলে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ও ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার ঝুঁকিতে পড়বে। তবে সৌর ও বায়ুশক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানি কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নও সহজ হবে বলে তারা মত দেন।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম