• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

সারাদেশ

বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গাকে সিঁদুরে বরণ, অশ্রুসজল বিদায়

প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ২:০৪
আপডেট: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ২:০৪

বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গাকে সিঁদুরে বরণ, অশ্রুসজল বিদায়
 

পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণ, পূজার ঘণ্টা, ঢাকের তাল, ধূপ আর ফুলের অঞ্জলিতে দেবী দুর্গাকে বিদায়। ছয় দিনের পূজার আনন্দ শেষে বিজয়া দশমী।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আজ বুধবার সকালে দেবীর চরণে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন করেন ভক্তরা। এরপর দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা।

দেবীকে সিঁদুর দিয়ে বরণ আর সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। আনন্দের আড়ালে বিদায়ের বিষাদ। আবার এক বছর পর দেবীর আগমনের প্রত্যাশা। সব মিলিয়ে মন্দিরজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ।

সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রদীপ জ্বালিয়ে, ধূপ-ফুল, বেলপাতাসহ বিভিন্ন উপাচারে দেবীর চরণে শেষবারের মতো অর্ঘ্য নিবেদন করেন তাঁরা। প্রার্থনায় উঠে আসে পরিবার-পরিজনের মঙ্গল, সবার সুস্থতা ও দেশের শান্তি–সমৃদ্ধির কামনা।

দেবীর দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর শাস্ত্রীয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। পরে মন্দিরের পুকুরে ঘট বিসর্জন দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় দেবীকে বরণ ও সিঁদুর খেলার আয়োজন।

এ সময় ভক্তরা দেবীর কপালে ও পায়ে সিঁদুর ছুঁইয়ে প্রণাম করেন। পরে একে অপরের কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেন। লাল সিঁদুরে রাঙা মুখ, হাসি আর চোখের কোণে জমে থাকা জল—সব মিলিয়ে বিদায়ের মুহূর্তে উৎসবের রং ছড়িয়ে পড়ে মন্দির প্রাঙ্গণে।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি তাপস কুমার পাল বলেন, ‘আজ দশমী পূজা হয়েছে। পূজার পরে সবাই অঞ্জলি দিয়েছে। অঞ্জলির পরে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এরপর পূজারিরা ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুকুরে ঘট বিসর্জন দিয়েছেন। এখন মায়ের বরণ ও সিঁদুর খেলা হবে।’

দেবীকে বরণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তাপস কুমার পাল বলেন, প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সপ্তমী তিথিতে দেবীর চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে প্রতিমায় দেবীর উপস্থিতি আহ্বান করা হয়। আর দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতিমার পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। সিঁদুর খেলা আনন্দ-উৎসবের অংশ। নারীরা স্বামীর মঙ্গল কামনায় সিঁদুর বিনিময় করেন।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আসা ভক্তদের প্রার্থনায় ছিল দেশ ও মানুষের মঙ্গল কামনা। ভক্তরা বলছিলেন, মায়ের কাছে তাঁদের একটাই প্রার্থনা, দেশটা যেন ভালোভাবে চলে।

দেবীর বিদায়ে মন খারাপ হলেও উৎসবের আনন্দে শামিল হন দিতিপ্রিয়া বণিক। তিনি বলেন, ‘মা চলে গেছেন, তাই মনটা একটু খারাপ। তবু আমরা এটাকে উদ্‌যাপন করছি। আসছে বছর আবার হবে, এই প্রত্যাশা। সবাই যেন সুস্থ থাকে, দেশের ভালো কিছু হয়, পরিবারের সবাই ভালো থাকে, এই প্রার্থনা করি।’

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বরণ ও সিঁদুর খেলার আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা বের হওয়ার কথা রয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে জানান, বেলা তিনটায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা শুরু হবে। এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আনা হবে। পরে ঢাকার ১১টি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। এ বছর ঢাকার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকার অন্যান্য মন্দির-মণ্ডপেও চলছে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি। ছয় দিনের পূজা-অর্চনা শেষে প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর ক্ষণ ঘনিয়ে আসায় ভক্তদের মনে বাজছে বিষাদের সুর। দেবীর চরণে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন, সিঁদুর দিয়ে বরণ ও আশীর্বাদ প্রার্থনায় ব্যস্ত ভক্তরা।

অন্যদিকে লালপেড়ে শাড়ি পরা নারীরা একে অপরের কপালে ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে মেতে উঠছেন সিঁদুর খেলায়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠছে মন্দির প্রাঙ্গণ। একদিকে সিঁদুর খেলার আনন্দ, অন্যদিকে দেবীকে বিদায় জানানোর বিষাদ। আনন্দ-বেদনার মিশেলে চলছে বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম