• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষের রাজনীতি, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় মুসলিমরা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২:১৩
আপডেট: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ২:১৩

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষের রাজনীতি, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় মুসলিমরা
 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে দেশজুড়ে ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলিমবিরোধী বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে মুসলিম প্রার্থীদের ঘিরে রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণায় বিদ্বেষের বিষয়টি সামনে এসেছে। মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের মতো নেতারা এর অন্যতম উদাহরণ। তবে এই পরিস্থিতি শুধু জাতীয় রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। টেক্সাসে কয়েক বছর ধরেই মুসলিমদের লক্ষ্য করে রাজনৈতিক বক্তব্য ও নীতিনির্ধারণী তৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সেখানকার মুসলিম ভোটাররা।

টেক্সাসে এবার রাজ্যজুড়ে কোনো মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে না থাকলেও মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এই নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাদের মতে, রাজনীতিতে মুসলিমদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার প্রভাব পড়ছে পরিবার, সন্তান এবং দৈনন্দিন সামাজিক জীবনে।

মঙ্গলবারের (৩ নভেম্বর) ভোটের কয়েক দিন আগে হিউস্টনের একটি ইসলামিক সেন্টারে পরিবারের সঙ্গে ‘ফল ফেস্ট’ নামের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন আইনজীবী সামির নাজজাম। ৪৫ বছর বয়সি এই আইনজীবী বলেন, রাজনীতিতে মুসলিমবিদ্বেষের প্রভাব তিনি সবচেয়ে বেশি অনুভব করেন নিজের সন্তানদের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্করা নিজেদের পছন্দমতো মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতে পারেন। কিন্তু শিশুরা একই স্কুলে পড়ে। তাদের পরিবারের কেউ কেউ নির্দিষ্ট কিছু সংবাদমাধ্যম দেখে। সেখান থেকে পাওয়া ধারণার কারণে শিশুরাও একে অপরকে নানা অপ্রীতিকর কথা বলে।’

টেক্সাসের মোট জনসংখ্যার দুই শতাংশেরও কম মুসলিম। তবে এবার ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে নিজেদের শক্তি দেখাতে চান সম্প্রদায়টির সংগঠকরা। দল-মত নির্বিশেষে মুসলিম ভোটারদের অনেকেই আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তারা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে একটি বার্তা দিতে চান—মুসলিমদের যেন কোনো দলের রাজনৈতিক স্বার্থে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।

হিউস্টনের ৩০টির বেশি মসজিদের তত্ত্বাবধানকারী ইসলামিক সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের সভাপতি এমরান গাজী বলেন, ‘মুসলিমদের সব জায়গায় কোণঠাসা করা হচ্ছে। তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।’

সংগঠনটি এবার ব্যাপকভাবে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম বাড়িয়েছে। এমনকি প্রতি শুক্রবারের জুমার নামাজের সময়ও ধর্মীয় নেতারা মুসল্লিদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সমর্থন করে না সংগঠনটি। গাজী বলেন, প্রত্যেককে নিজের বিবেক অনুযায়ী ভোট দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তারা যেন এই সম্প্রদায়ের কথাও বিবেচনায় নেন।’

‘আমার টেক্সাসে শরিয়াহ আইন চাই না’

রাজনৈতিক স্বার্থে কোনো একটি সম্প্রদায়কে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেখানোর প্রবণতা নতুন নয় বলে মনে করেন টেক্সাসের মুসলিম ভোটাররা। তবে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত এই অঙ্গরাজ্যে মুসলিমবিরোধী বক্তব্য ও নীতিগত পদক্ষেপ যেভাবে বেড়েছে, তা তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

৪২ বছর বয়সি চিকিৎসক মারিয়াম আহমেদ বলেন, ‘সত্যি বলতে, পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। গত দুই বছরে এমনও ভেবেছি, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েই চলে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার একটি সন্তান আছে। আমি চাই না, তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে দেখা হোক। আমাকে ইতোমধ্যে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আমি চাই না আমার সন্তানকেও একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হোক।’

টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং রাজ্য রিপাবলিকান পার্টির বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে ‘শরিয়াহ আইন’ প্রসঙ্গ। ইসলামের ধর্মীয় রীতিনীতি ও বিধিবিধানকে বোঝাতে ব্যবহৃত এই শব্দকে তারা টেক্সাসের মানুষের জন্য আসন্ন হুমকি হিসেবে তুলে ধরছেন বলে অভিযোগ মুসলিমদের।

গত মাসে ডালাসে অনুষ্ঠিত রিপাবলিকান মিডটার্ম কনভেনশনে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট বলেন, ‘আমরা ওয়াশিংটন ডিসির জন্য অপেক্ষা করছি না। টেক্সাসে শরিয়াহ আইন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করব।’

একই অনুষ্ঠানে রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজও বলেন, ‘শরিয়াহ আইন মৌলিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি বন্ধ করতে আমাদের এখনই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

গত জুনে টেক্সাসের রিপাবলিকান পার্টি ‘ডোন্ট শরিয়াহ মাই টেক্সাস’ (আমার টেক্সাসে শরিয়াহ আইন চাই না) শিরোনামে একটি আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করে। এতে শরিয়াহ আইনের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি শাস্তি, সরকারি চাকরি, সামরিক বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে কাজের অযোগ্য ঘোষণা, নাগরিকত্ব বাতিল এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপের কথা বলা হয়।

এর আগে মার্চে টেক্সাসের আইনপ্রণেতারা ‘শরিয়াহ-ফ্রি টেক্সাস ককাস’ নামে একটি জোট গঠন করেন। ১৫০ সদস্যের রাজ্য আইনসভায় ইতোমধ্যে এই জোটে ৩৮ জন সদস্য যুক্ত হয়েছেন।

এ ছাড়া টেক্সাসের দুই রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য চিপ রয় ও কিথ সেলফ ‘শরিয়াহ-ফ্রি আমেরিকা ককাস’ নামে একটি জোট গঠন করেন। কংগ্রেসে এই জোটের সদস্যসংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে কোথাও চালু হয়নি শরিয়াহ আইন

মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শরিয়াহ আইন নিয়ে রাজনীতিবিদদের এমন প্রচারণা যেমন বিস্ময়কর, তেমনি উদ্বেগজনকও। কারণ টেক্সাস কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো অঙ্গরাজ্যে ইসলামি আইন চালুর নজির নেই।

সম্প্রতি হিউস্টনে বসবাস শুরু করা ৩৩ বছর বয়সি চিকিৎসক সারাহ দাব্বাস বলেন, ‘বাস্তব জীবনে সবাইকে যেভাবে দেখানো হচ্ছে, মানুষ আসলে ততটা বিদ্বেষী নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কখনো কেউ সরকারে মুসলিম আইন চাপিয়ে দেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তা করতেও পারি না। আমরা শুধু নিজেদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করি।’

ইসলামবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, টেক্সাসের রাজনীতিবিদরা কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে বড় করে দেখাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর টেক্সাসে মুসলিমদের জন্য বিশেষ আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং স্বেচ্ছায় ইসলামি সালিশ পরিচালনাকারী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম।

খ্রিষ্টান ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যেও এ ধরনের স্বেচ্ছামূলক সালিশব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইসলামবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘দ্য ব্রিজ ইনিশিয়েটিভ’ বলেছে, টেক্সাসের রাজনীতিবিদরা মুসলিমদের সাধারণ নাগরিক কর্মকাণ্ডকেও ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, মুসলিমদের জনজীবনে অংশগ্রহণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততাকে ইসলামি আইনের বিস্তারের হুমকি হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্যত মুসলিমদের একজন সক্রিয় নাগরিক হিসেবে অংশগ্রহণ, এমনকি তাদের অস্তিত্বকেও বড় ধরনের হুমকির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

রেহাই পাচ্ছেন না রিপাবলিকান মুসলিমরাও

টেক্সাসের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শুধু ডেমোক্র্যাট বা সাধারণ মুসলিমরাই নন, রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে যুক্ত মুসলিমরাও বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত জুনে টেক্সাস রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। টেক্সাস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক ঘটনায় দলটির বিদায়ী চেয়ারম্যান আব্রাহাম জর্জ দুই মুসলিম প্রতিনিধিকে দল ছেড়ে চলে যেতে বলেন।

অন্য এক ঘটনায় রাজ্যের এক সিনেটর আলোচনাসভায় দাবি করেন, শরিয়াহ আইন অনুযায়ী মুসলিমদের নিজেদের পরিচয় আড়াল করতে মিথ্যা বলতে হয়।

হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন দলীয় প্রতিনিধি তারেক হোসেনের ছেলেও। তারেক হোসেন ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার) হিউস্টন কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোজোসার চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা গভর্নর অ্যাবট কেয়ার টেক্সাসকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার এ ধরনের তকমা দিয়ে থাকে।

এ ছাড়া ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে থাকা টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন কেয়ারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। রাজ্যটিতে সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধ করতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।

এর জবাবে কেয়ার টেক্সাস গভর্নর অ্যাবটের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, অ্যাবটের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানপ্রদত্ত বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের পরিপন্থি।

সম্মেলনে উপস্থিত একজন মুসলিম রিপাবলিকান আলজাজিরাকে বলেন, ওই অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। হয়রানির আশঙ্কায় নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাদের ব্যবসায়িক মূল্যবোধ ও পারিবারিক মূল্যবোধের সঙ্গে আমি একমত।’

তবে স্থানীয় রিপাবলিকান রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও এবার ব্যালটে কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

তার মতে, রক্ষণশীল মুসলিমদের অনেকে হয়তো রিপাবলিকান পার্টি ছেড়ে অন্য দলকে ভোট দেবেন না। তবে কিছু প্রার্থীকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।

ভোটের মাধ্যমেই পরিবর্তনের আশা

স্থানীয় সংগঠকদের মতে, মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ থাকলেও সেই অসন্তোষকে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়া সহজ হচ্ছে না।

কোয়ালিশন ফর পিস, রিলিফ অ্যান্ড ইকুইটিতে কাজ করা সানিয়া রহিম বলেন, হিউস্টনসহ টেক্সাসের মুসলিম সম্প্রদায় জাতিগত ও ভাষাগত দিক থেকে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এখানে কোনো একটি জাতিগোষ্ঠীর একক আধিপত্য নেই।

তিনি বলেন, ‘শুধু আরবি রেডিওতে ভোট দেওয়ার প্রচারণা চালালেই হবে না। কারণ এখানকার বড় একটি জনগোষ্ঠী আরবি ভাষায় কথা বলে না।’

তার মতে, টেক্সাসের মুসলিম ভোটাররা সাধারণত রাজ্যজুড়ে নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনে বেশি সক্রিয় থাকেন।

তবে সম্প্রতি টেক্সাসের শিক্ষা বোর্ডের একটি সিদ্ধান্ত মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি করেছে। বোর্ড উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রম অনুমোদন করেছে, যেখানে সমালোচকদের দাবি অনুযায়ী ‘চরমপন্থি ইসলাম’ ধারণাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়েও ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হিউস্টনের ইসলামিক সেন্টারে আয়োজিত ‘ফল ফেস্ট’ অনুষ্ঠানে কেয়ার অ্যাকশনের একটি স্টলে দায়িত্ব পালন করছিলেন সংগঠনটির সরকারি সম্পর্ক ও আইনবিষয়ক ব্যবস্থাপক সামিহা রিজভি।

তিনি বলেন, মুসলিমদের একটি অংশের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, বৈষম্য ও বিদ্বেষ মোকাবিলার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো চুপ থাকা এবং কোনো প্রতিবাদ না করা।

রিজভির ভাষায়, ‘আমাদের অনেক নেতা মনে করেন, আমাদের সঙ্গে যা ঘটছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো মাথা নিচু করে থাকা এবং নীরব থাকা। তারা হয়তো মানুষকে ভোট দিতে বলছেন, কিন্তু এসব ইস্যুতে জনমতের আদালতে জোরালোভাবে কথা বলছেন না।’

পরে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনাদের মধ্যে কারা ইতোমধ্যে ভোট দিয়েছেন? আর কারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন, কিন্তু এখনো ভোট দেননি?’

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি পরিবর্তনের একমাত্র উপায় হলো ভোট দেওয়া। আমাদের পরিবারগুলোর জন্য এই অঙ্গরাজ্যকে নিরাপদ করে তুলতে হলে এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে হবে। এখানে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

সূত্র: আল জাজিরা , টেক্সাস ট্রিবিউন

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম