শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
আমরা ক্ষমতায় আছি বলে আমাদের কথা ও আচরণে কোনো মানুষ যেন ন্যূনতম আঘাত না পায়। বিএনপির তৃণমূলের কর্মীরা বর্তমান সরকারের অংশীদার, দলের নেতা-কর্মীদের আরও বিনয়ী হতে হবে এবং আপনারা বিনয়ী হলে সংগঠনের জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট নগরীর কাজীরবাজার তোপখানাস্থ সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশংসা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘কিছুদিন আগের একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি এবং তার চমৎকার আচরণ ও সময়োপযোগী কথাবার্তার ফলেই এই জনপ্রিয়তার অর্জন। আমাদেরও সেই আদর্শ ধারণ করতে হবে এবং মাঠপর্যায়ে কোনো ধরনের সংঘাত সৃষ্টি হলে আপনারা সরাসরি পুলিশকে ইনফর্ম করবেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে, চাঁদাবাজি ও দখলদারির সঙ্গে যারাই যুক্ত থাকুক না কেন, বিএনপি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবে। আমরা যদি এভাবে নিয়ম মেনে চলতে পারি, তবে আমাদের জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ন থাকবে এবং আগামী পাঁচ বছর পর আবারও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে।’
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসনামলের মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘শহিদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম জিয়া এত জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হলো স্বৈরাচার হাসিনা ও শেখ মুজিব যেভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন, তারা ঠিক তার বিপরীত ধারায় দেশ পরিচালনা করে দেখিয়েছেন। আওয়ামী লীগ কেবল মানুষ হত্যা, গণতন্ত্র হত্যা আর রক্তের রাজনীতি করেছে, অন্যদিকে শহিদ জিয়া ও বেগম জিয়া দেশের সংবাদপত্র, রাজনৈতিক দল এবং মানুষের কথা বলার স্বাধীনতাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। এটাই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার মূল পার্থক্য এবং তারেক রহমানও আজ সেই পথেই হাঁটছেন, তাই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে জনগণ যেন আমাদের কোনো কাজকর্মে বিরক্ত না হয়।’
বিগত ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে সিলেটের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বিগত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিলেটের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। আপনাদের অসংখ্য ছাত্রনেতা গুম হয়েছেন এবং অসংখ্য নেতা-কর্মী চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিগত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানেও সাংবাদিকসহ এখানকার অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সিলেট শহর হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শহর, অত্যাচারীর বিরুদ্ধে আজীবন লড়াইয়ের শহর, তাই যারা শহিদ জিয়া, বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের স্লোগান দেবেন, তারা যেন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার আসল প্রতিফলক ও বিশ্বস্তস্থল হয়ে ওঠেন।’
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এটি আমাদের পরম সৌভাগ্য যে, সিলেট মহানগর বিএনপির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমাদের নিজেদের পার্টি অফিসে দলের মহাসচিবকে আমরা পেয়েছি। এমন এক নেতাকে পেয়ে আমরা ধন্য, যিনি তৃণমূল থেকে তিলে তিলে উঠে এসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে আঁকড়ে ধরেছেন এবং বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে গুলির মুখেও সবার সামনে থেকে সাহসিকতার সঙ্গে দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।’
নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘সিলেট মহানগর বিএনপির দায়িত্ব পুনরায় পাওয়ার পর সাধারণ সম্পাদকসহ সব নেতাদেরকে নিয়ে আমরা মহানগরের অনেকগুলো ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মহানগরের প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দল পরিচালনা করে আসছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে আমরা কখনো বিমুখ করব না এবং সাংগঠনিকভাবে যখনই যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমরা তা পালন করেছি এবং আগামীতেও যে দায়িত্ব দেওয়া হবে তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব, আমাদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য কখনো কেউ দেখতে পাবেন না।’
মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করতে গিয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট মহানগর বিএনপি অতীতেও ঐক্যবদ্ধ ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের দ্বারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে এমন কোনো কাজ আপনারা কখনো দেখতে পাবেন না এবং আমরা সবার ঐক্যবদ্ধ থেকেই সিলেট মহানগর বিএনপিকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছি।’
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালেক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী।












