• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

বিশেষ কলাম

শত্রু পক্ষের আতঙ্কের নাম তারেক রহমান, এক বক্তব্যে ঘুম হারাম

প্রকাশ: বুধবার, ২ মার্চ, ২০২২ ৮:১৬
আপডেট: বুধবার, ২ মার্চ, ২০২২ ৮:১৬

 

আব্দুল আজিজ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উত্তরসূরী তারেক রহমান। দলের দুঃসময়ে বিচক্ষন নের্তৃত্ব যে এ মুহূর্তে খুব জরুরি তা নেতা কর্মীরা ঠিকই অনুভব করছেন। তবে সিনিয়র নেতারা বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ না করলেও তৃণমূল নেতা কর্মীরা বিএনপির উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানকেই বুকের মধ্যে লালন করেন। রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের জন্য তার আগমন জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু চলমান সঙ্কটে তিনির আগমন হয়তো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দেশের রাজনীতি দুটি ধারায় বিভক্ত। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপির পরবর্তী নেতা যে তারেক রহমান তা বলার অবকাশ রাখে না। তাই তো দলের তৃণমূল নেতা কর্মীদের নিয়ে তারেক রহমান রজনীতিতে একটি নতুন পরিবর্তন চেয়ে ছিলেন। এগিয়েও গিয়ে ছিলেন সমান তালে। বাবার নীতিকে বুকে নিয়ে তারেক রহমানও এগিয়ে গিয়ে ছিলেন অনেক দূরে। মা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে থেকে রাজনীতির আমূল পরিবর্তন আনতে তার সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো।
দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদ নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের আনাচেকানাচে। তার সক্রিয়তা এতই প্রকট ছিল যে তরুণদের মধ্যে একটি জাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকেই দেশের পরবর্তী নেতা হিসেবে তাকে নিয়ে স্বপ্নও দেখে ছিলেন। অনেকে আতঙ্কিতও ছিলেন তারেক কে নিয়ে। আর এ আতঙ্কই হয়েছে তারেকের কাল। ঠিক যে ভাবে এগিয়েছিলেন। ১/১১ এর পর বিভিন্ন চক্রান্ত তাকে জনগণের সামনে ভিলেন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বর্তমান সময়ে এসে দেখা গেছে তার যতো মামলা সবই চাপা পড়ে আছে চক্রান্তেরেই জালে।
তারেক রহমান দেশের রাজনীতিতে আসলে অনেকের রাজনীতির পথ যে রুদ্ধ হয়ে যাবে তা টের পেয়েছে আওয়ামী লীগ। তাইতো অনেকদিন চুপ করে থাকা তারেক রহমানের নরাচড়া দেখে মাথা ঘুরেছে আওয়ামী লীগের। স¤প্রতি লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপির আঞ্চলিক শাখাগুলোর প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর সেখানে দলের নেতা কর্মীদের সাথে ঘরোয়া আলাপে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দেখে সরকার দলের মধ্যে ভীতসঞ্চর হয়েছে। এত দিন তারেক রহমান কে নিয়ে তেমন কোনো মাথা ব্যথা ছিল না তাদের। বেশ কয়েকটি মামলা থাকলেও তা ছিল চাপা পড়ে। কিন্তু হঠাৎ করে তারেক রহমানের দলে কিছুটা সক্রিয় হয়ে ওঠায় আবার সেই মামলার হুমকি দিয়েছে সরকার দলীয় নেতারা। সরকার দলের এ হুমকিতে একটুও বিচলিত নন তারেক রহমান। তিনি তার দলের সকল নেতা-কর্মীকে সজাগ থাকার আহŸান করেছেন। এ বিষয়ে তারেক রহমানের মন্তব্য-হুমকি দিয়ে সত্যকে আড়াল করা যায় না। দেশকে সামনে দিকে এগিয়ে নিতে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাজ করবেন তিনি। উল্লেখ্য, লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপির আঞ্চলিক শাখাগুলোর প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশপ্রেমিকরা চুপ করে বসে থাকতে পারে না। দেশে আজ গণতন্ত্র নেই, নেই আইনের শাসন, মানুষের সভা-সমাবেশের অধিকার নেই, নেই মানবাধিকার। তিনি বলেন, ১/১১-এর দুর্যোগে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা প্রমান করেছে দলকে ধরে রাখা যায়। বর্তমান সরকার দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে দেশে যারা অবস্থান করছেন তারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। দেশকে যারা ভালোবাসেন, দেশের মানুষকে যারা ভালোবাসেন তারা কেউ বর্তমান এই পরিস্থিতিতে চুপ করে বসে থাকতে পারে না। যারা বিএনপিকে ভালোবাসেন বা দলকে ভালোবাসেন, তারা শুধু নয়, দেশকে যারা ভালোবাসেন, দেশের মানুষকে যারা ভালোবাসেন তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে দেশের প্রতি। তিনি বলেন, রাতের আধারে মতিঝিলে লাইট নিভিয়ে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে সরকার এতগুলো লোক হত্যা করল। মতাদর্শে ভিন্নতা থাকতে পারে, তাই বলে এত গুলো মানুষকে এভাবে কেউ মেরে ফেলতে পারে না। এটা কোন সভ্য দেশে চলতে পারে না।
আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা যারা বলেন তাদেরকে বর্তমান এই পরিস্থিতি তুলে ধরার দায়িত্ব হচ্ছে যুক্তরাজ্যে বসবাসকরী নেতাকর্মীদের। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। আর ঠিক সেই সময়ে হঠাৎ করে তারেক রহমানের সক্রিয় হওয়া ভালো চোখে দেখছেন না অনেকেই। তবে বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণ ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। দলের এই ক্রান্তি লগ্নে তার সক্রিয় হওয়াকে পজিটিভ ভাবে নিচ্ছেন তারা।
এ মুহূর্তে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলো জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে আছে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলেও পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় যাবৎ আইনী লড়াই চালিয়েও কোন কর্তৃপক্ষ আদালতের কাছে দুর্নীতির প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় কোন কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সন্দেহ পোষণ করেছেন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ অনেকাংশেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল কিনা। রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে তৈরি এ চক্রান্ত যদি সত্যি হয় তবে চক্রান্তকারীরা সফল। এ মুহূর্তে তারেক রহমান অনেকের চেখের শূল। তবে আশার কথা হচ্ছে তারেক তার দলের নেতা কর্মীদের কাছে আজও সমান জনপ্রিয়। বর্তমানে রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও দলে তার অবস্থান আগের মতোই আছে। এখনও দলের কোনো বড় সিদ্ধান্ত তার কাছ থেকেই আসে। ১/১১-এর পরে কিছু নেতার সংস্কারপন্থী ভ‚মিকা তারই প্রমাণ। বর্তমানেও যে সেই চক্রান্তকারীরা দলের মধ্যে নেই তা বলা ভুল হবে। কারণ এখনও দলের কার্যালয়ে কি হয় তা মুহূর্তের মধ্যে বাইরে ছড়িয়ে যায়। কোনো গোপন বৈঠকের সিদ্ধান্তও চলে যায় শত্রæ পক্ষের কাছে। যদিও এর সত্যতা নিয়ে দল থেকে প্রতিবাদও করা হয়েছে। দল বিষটি মেনে নিতে নারাজ। তবে ঘটনা যে একেবারে অসত্য তা বলার অবকাশ নেই।

উইকিলিকস খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এবং তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কিত নানান বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে অনেক আগেই। সেখান থেকে জানা যায়, তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিজয়ী হওয়ার কৃতিত্ব তার। তাকে অনেকে বলে থাকেন দুর্নীতিবাজ, রাজনীতি ও ব্যবসায়ী ক্ষেত্রে অনভিজ্ঞ, অর্ধ শিক্ষিত ও দুর্বিনীত। আবার কেউ কেউ তাকে ডায়নামিক, স্মার্ট ও নতুন প্রজন্মের নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি বিএনপির সিনিয়র পদে অভিষিক্ত হওয়ায় তার মা খালেদা জিয়া অধিকতর নিরাপদ অনুভব করেন। দলের অনেকেই মনে করেন তারেক জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব। তার সমৃদ্ধ অতীত আছে, আছে সৃজনশীল বর্তমান এবং সম্ভবনাময় এক ভবিষ্যত। তাকে নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সমালোচনার সুযোগ তাই রয়েছে।

লেখকঃ প্রধান সম্পাদক
জনতার আওয়াজ ডটকম

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম