শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাঠের আসবাবপত্রের পরিবর্তে প্লাস্টিকের বেঞ্চ সরবরাহের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, সরকারি ক্রয় আইন অনুযায়ী অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণ এবং দেশীয় ফার্নিচার শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতি। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানানো হয়।
সমিতির চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান ও মহাসচিব এ করিম মজুমদার স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সাম্প্রতিক একটি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাঠের বেঞ্চের পরিবর্তে শ্রেণিভিত্তিক প্রোটোটাইপ প্লাস্টিক আসবাবপত্র সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত দেশের একটি সম্ভাবনাময় ও শ্রমনির্ভর শিল্পখাতকে মারাত্মক সংকটের মুখে ফেলবে।
সমিতির প্রধান শঙ্কা ও যুক্তিগুলো:
কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ওপর আঘাত: ফার্নিচার শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ জড়িত। প্লাস্টিক ফার্নিচারকে এককভাবে প্রাধান্য দিলে দেশীয় কাঠ ও বোর্ডভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কাঠমিস্ত্রি, কারিগর এবং শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।
সরকারি ক্রয়ে অবাধ প্রতিযোগিতা ক্ষুণ্ন: পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (PPA) ও রুলস (PPR) লঙ্ঘন করে কোনো নির্দিষ্ট উপকরণকে বাধ্যতামূলক করা হলে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হবে। এতে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া বাজার তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা: প্লাস্টিক বেঞ্চের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং ভাঙা অংশের ধারালো প্রান্ত শিক্ষার্থীদের শারীরিক আঘাতের কারণ হতে পারে। যেখানে কাঠ বা বোর্ডভিত্তিক আসবাবপত্র স্থানীয়ভাবে সহজেই মেরামত করা যায়, সেখানে প্লাস্টিকের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ সীমিত।
পরিবেশগত ঝুঁকি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপকভাবে প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহারের ফলে প্লাস্টিক দূষণ বৃদ্ধি পেয়ে মাটি ও জলাশয়ের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, যা সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
সমিতির পক্ষ থেকে পেশকৃত প্রধান দাবি ও সুপারিশ:
১. পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা ও তুলনামূলক সমীক্ষা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্লাস্টিক বেঞ্চ সরবরাহের সিদ্ধান্তটির বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা।
২. সরকারি ক্রয়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অযৌক্তিক সুবিধা না দিয়ে PPA ও PPR-এর বিধান অনুযায়ী সবার জন্য সমান সুযোগ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা।
৩. কাঠ ও প্লাস্টিকের বেঞ্চের স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা, মেরামতযোগ্যতা এবং ১০ থেকে ১৫ বছরের জীবনচক্র ব্যয় মূল্যায়ন করা।
৪. সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, পরিবেশবিদ, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং ফার্নিচার শিল্পখাতের উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় পর্যায়ের পরামর্শ সভা গঠন করা।
উল্লেখ্য, এই স্মারকলিপির অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষামন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, শিল্প সচিব, বাণিজ্য সচিব, পরিবেশ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (BPPA) প্রধান নির্বাহী বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।













