হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
ছবি : সংগৃহীত
হবিগঞ্জের মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে নিজেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় শিশুদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে মেতে ওঠেন তিনি। এমনকি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে ক্ষুদে চিকিৎসকদের দিয়ে নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করান প্রতিমন্ত্রী।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দিনব্যাপী মাধবপুর উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় পাঠদানের পাশাপাশি স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
সকাল ১০টার দিকে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ নোয়াপাড়া এলাকার আলহাজ্ব এস এম ফয়সল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করেন তিনি। এ সময় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেঝেতে বসে পাঠদান করেন এবং তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের মেধা, আগ্রহ ও শেখার পরিবেশ সম্পর্কেও জানার চেষ্টা করেন। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণ এবং খাদ্য সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জগদীশপুর চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন তিনি। এ সময় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে ক্ষুদে চিকিৎসকদের দিয়ে নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করান। পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তবে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ববি হাজ্জাজ। দুর্বল শিক্ষার্থীদেরও ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় প্রধান শিক্ষকের প্রতি ক্ষোভ জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামাসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘বিগত দিনগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রকল্পগুলো খুবই অস্বচ্ছভাবে করা হয়েছে। এখন আমরা নতুন কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। শিগগিরই এসব প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষায় আমরা পরিমার্জিত কারিকুলামের ওপর কাজ করছি। প্রতিটি বিষয় যেন বিজ্ঞানসম্মত হয়, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’













