• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

জাতীয়

অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নিত সাত সদস্যের কিচেন কেবিনেট

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬ ৪:১৩
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬ ৪:১৩

 

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ছবিঃ সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘ডিপ স্টেট’ পৃথিবীর প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকে এবং নেপথ্যে থেকে বিভিন্ন পরিস্থিতি ম্যানুপুলেট করে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বা ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর সময়ও এই ‘ডিপ স্টেট’ সক্রিয় ছিল এবং স্রোতের বিপক্ষে না গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রভাব রেখেছিল।

সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডিপ স্টেট ও সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে তিনি খোলামেলা আলোচনা করেন। এ সময় ডিপ স্টেটের ভূমিকা নিয়ে তিনি দাবি করেন, ডিপ স্টেট ছাড়া পৃথিবীতে কিছুই ঘটে না। তারা যেকোনো ঘটনার পেছনে যুক্ত থাকে এবং কৌশলে পরিস্থিতি ম্যানুপুলেট করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সাত সদস্যের একটি ক্ষুদ্র চক্র বা ‘কিচেন কেবিনেট’ নিত এবং তারা প্রতি মঙ্গলবার যমুনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতেন। এই কর্মকাণ্ডে হতাশা জানিয়ে তিনি বলেন, কিচেন কেবিনেটের সদস্যদের অনেকেরই কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা ছিল না। তা সত্ত্বেও তাদের মতামতকে উচ্চপর্যায়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হতো। এসব অদক্ষতা এবং অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে তিনি বিব্রতবোধ করতেন। তৌহিদ হোসেন বলেন, তিনি তিনবার পদত্যাগ করার কথা ভেবেছিলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিজের প্রত্যাশার একটা বড় অংশই পূরণ হয়নি বলে জানান সাবেক এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কোনো এক উপলক্ষে কিচেন কেবিনেটের এক বৈঠকে আমাকে যমুনাতে যেতে হয়েছিল। পরে আমি জেনেছি যে প্রতি মঙ্গলবার তারা বৈঠকে বসেন। সিদ্ধান্ত নেন কেউ কেউ, এ ধরনের কথাবার্তা শোনা যেত। আমার কানেও আসত। কিন্তু এর বাইরে আসলে আমার জানা ছিল না যে এ রকম একেবারে একটা গ্রুপ আছে, যারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নিয়মিত বসেন।

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে তাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এতে সামান্যতমও যুক্ত ছিল না। এটাতে যুক্ত ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। কোনো কারণ হয়তো ছিল এর পেছনে, যে জন্য আমরা বাধ্য হয়েছিলাম। কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলে সই করার বিষয়টা নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যথাযথ হতো।

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে চিঠি লিখলেও তা যে কাজে আসবে না সেটাও জানতেন বলে উল্লেখ করেন তৌহিদ হোসেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে, এ রকম থাকবে না। আমাদের মানুষজনের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ না। আমি মনে করি, বিশ্বাস করি যে তারা রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আমার অনুমান আগামী নির্বাচনে তারা অংশ নেবে।’

বিএনপি সরকার নিয়ে এখনই মূল্যায়ন করতে নারাজ এই কূটনীতিক। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন-ভারতকে সামলানোই তারেক রহমানের বড় চ্যালেঞ্জ।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম