আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৮০ জন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে দেশটির তোলেদো প্রদেশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়েল এবং আন্দালুসিয়ার মধ্যকার সমস্ত ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিগন্যালিংয়ের একটি মূল ত্রুটি মেরামতের দায়িত্বে থাকা এক কর্মীর ‘মানবিক ভুলের’ কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ‘ইরিও’ ট্রেন সম্পর্কে ওই কর্মী ‘এভিই’ হাই-স্পিড ট্রেনের চালককে সতর্ক করতে ব্যর্থ হন।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পেজ জানান, নিহতদের মধ্যে ২৪ জনের মরদেহ রেনফে ট্রেন থেকে এবং বাকিদের মরদেহ ইরিও ট্রেন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দল ও সন্ধানী কুকুর নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলের ধ্বংসাবশেষের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা তল্লাশি করা হচ্ছে।
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ইরিও ট্রেনে একজন শিশুসহ ১৪৬ জন এবং রেনফে ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিক আহত হয়েছেন এবং মাদ্রিদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে তাদের সহায়তায় কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর পুরো স্পেনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রেসিডেন্ট এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পেজ বলেন, ‘পুরো স্পেন আজ শোকাচ্ছন্ন। আমরা নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
একই সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এক বছরের মধ্যে দুটি ভয়াবহ উচ্চগতির রেল ট্র্যাজেডির শিকার হলাম। স্পেনের মতো একটি দেশে একই বছরে দুটি উচ্চগতির রেল দুর্ঘটনা ঘটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মন্ত্রণালয় এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির কারণ খতিয়ে দেখছে। যদি কোনো অবহেলা বা নিরাপত্তা ত্রুটি থেকে থাকে, তবে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে তা সমাধান করব এবং এর শেষ দেখে ছাড়ব।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কর্ডোবা প্রদেশের আদামুজের কাছে ইরিও ও রেনফে-র দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। আর এর আগে ২০১৩ সালে স্পেনের গ্যালিসিয়া অঞ্চলে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা সংবাদমাধ্যমের কাছে সেই ভয়াবহ মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। রেনফে ট্রেনের শেষ বগিতে থাকা মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল পেরেজ বলেন, ‘দুর্ঘটনার ঠিক আগে ট্রেন চালক ও কর্মীরা সতর্ক করেছিলেন যে লাইনে অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রেন থামানো হচ্ছে। এরপর এটি আবার চলতে শুরু করলে বিকট একটি ধাক্কা অনুভূত হয় এবং ট্রেনটি হেলে পড়ে লাইনচ্যুত হতে শুরু করে। বগিগুলো সম্পূর্ণ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।’
আরেক যাত্রী অ্যানা জানান, দুর্ঘটনার পর যাত্রীরা জানালার কাচ ভেঙে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। চোখের সামনে লোকজনকে মারা যেতে দেখার সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘মানুষের আর্তনাদ আর রক্তে ভেসে যাওয়া সেই দৃশ্য কখনো ভুলব না।’
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সমস্ত জরুরি সম্পদ একত্রিত করেছে এবং আঞ্চলিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে। স্বাধীন রেল দুর্ঘটনা তদন্ত কমিশন দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কাজ শুরু করেছে।













