• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

সারাদেশ

কক্সবাজারে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন ফতুল্লায় একই পরিবারের তিনজনের দাফন

প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৪৫
আপডেট: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৪৫

কক্সবাজারে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন ফতুল্লায় একই পরিবারের তিনজনের দাফন
 

এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের জানাজা ও দাফন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাদ জোহর ফতুল্লার পোস্ট অফিসসংলগ্ন শাহজাহান রোলিং মিলের পাশে বায়তুল নাজাত জামে মসজিদে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাঁদের দাফন করা হয়।
নিহতরা হলেন ফারিহা কবির (৩৩), তাঁর ছোট ভাই নাফিস তেহামি (২৬) ও ফারিহার সাড়ে ছয় বছর বয়সী ছেলে ফাইজান নূর। গত ১৭ অক্টোবর রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডে তাঁরা প্রাণ হারান।
নাফিস তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টার্স ইন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন। ফারিহা স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন। তাঁর ছেলে ফাইজান চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের কেজি-টু শ্রেণিতে পড়ত। ফারিহার স্বামী নূর আলম ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে কর্মরত। ফারিহা ও নাফিসের বাবা জিহাদুল কবির অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।
ফারিহার চাচাতো বোন সাদিয়া বিনতে হাবিব জানান, তাঁদের দাদা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে পরিবারের সদস্যরা ফতুল্লা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের রেলওয়ে কলোনিতে বসবাস করতেন। সেখানেই ফারিহা ও নাফিসের শৈশব-কৈশোর কেটেছে। ফতুল্লায় তাঁদের নিজস্ব বাড়িও রয়েছে।
সাদিয়া জানান, ২০১৯ সালে ফারিহার বিয়ে হয়। স্বামীর চাকরির সুবাদে তিনি চুয়াডাঙ্গায় থাকতেন। চলতি মাসের ১৪ তারিখে ফারিহা ও তাঁর এক খালাতো বোনসহ পরিবারের ১০ সদস্য কক্সবাজারে বেড়াতে যান। জরুরি কাজে ফারিহার স্বামী ঘটনার আগের রাতে সেখান থেকে চলে আসেন।
সাদিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর সকাল ১০টার বাসে তাঁদের ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বাস তাঁদের রিসোর্ট থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। স্বামীর চলে আসার পর রিসোর্টের একটি কক্ষে তিনজন ও অন্য কক্ষে ছয়জন ছিলেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টে আগুন লাগে। এ সময় তিনজন জানালার থাই গ্লাস ভেঙে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। সকাল পৌনে ৮টার দিকে তাঁর চাচা ফোন করে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানান। পরে তাঁরা স্বজনদের মৃত্যুর সংবাদ পান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের দাদা ও নানার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের ফতুল্লায় দাফন করা হয়েছে।
স্বজনেরা জানান, একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে তাঁরা শোকে পাথর হয়ে গেছেন। বিশেষ করে নাফিসকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এমন মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো।
পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, তাঁদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আরেক খালাতো বোন মেহজাবিনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এবং অন্য দুই খালাতো বোন ইসরাত জাহান ও লায়লা জাহান নাবিলাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দাফন করা হয়েছে।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম