কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে উৎসবের আবহ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
ছবিঃ প্রতিনিধি
ঢাকার বাইরে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে পুরো কিশোরগঞ্জ জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
হাওর, নদী-বিল, মিঠাপানির মাছ ও বোরো ফসলের সমৃদ্ধ এই জনপদে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের নানা প্রত্যাশা নিয়ে রবিবার (১৬ আগস্ট) এই সফরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা। নির্বাচনের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কিশোরগঞ্জ সফর। সফরে জেলার তিন উপজেলা পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী ও সদর উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত, মৎস্য উদ্যোক্তাদের পুরস্কার, উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-প্রত্যাশা তুলে ধরার সুযোগ হিসেবেও সফরটিকে দেখছেন কিশোরগঞ্জবাসী।
ইতোমধ্যে জেলা শহর ও কটিয়াদীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অনুষ্ঠানস্থল ও স্থাপনায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা।
কেন কিশোরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ?
জাতীয় পর্যায়ের এই আয়োজন এবার ঢাকার বাইরে নেওয়ার পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ময়মনসিংহের মৎস্য খাতের বড় অবদান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের মৎস্য উৎপাদনে বৃহত্তর ময়মনসিংহের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এই অঞ্চলের মৎস্যচাষি ও উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনা ও সাফল্যকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতেই কটিয়াদীতে এবারের আয়োজন করা হয়েছে।
কটিয়াদীতে জাতীয় আয়োজন
প্রধানমন্ত্রীর সফর শুরু হবে পাকুন্দিয়া থেকে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করবেন তিনি। সেখানে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়েরও কথা রয়েছে।
এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১টার দিকে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর উদ্বোধন করবেন তিনি। এ আয়োজনেই মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা দেশের ১৪ জন উদ্যোক্তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বর্ণপদক দেওয়ার কথা রয়েছে।
শোলাকিয়া থেকে পুরোনো স্টেডিয়াম
মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী আয়োজন শেষে প্রধানমন্ত্রী যাবেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায়। বেলা আড়াইটার দিকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। সেখানে ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও কিছুক্ষণ বিশ্রাম শেষে বিকেল ৪টার দিকে জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে কিশোরগঞ্জ ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
উৎসবের আড়ালে উন্নয়নের দীর্ঘ তালিকা
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে কিশোরগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে রয়েছে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা, ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথ ডাবল লাইনে রূপান্তর এবং এ পথে আরও আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা। কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তাবিত কিশোরগঞ্জ ইপিজেড বাস্তবায়ন, বন্ধ থাকা কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিল ও কালিয়াচপড়া চিনিকল চালু, বাজিতপুরের সরারচর এয়ারস্ট্রিপকে বিমানবন্দরে রূপান্তর এবং হাওরকেন্দ্রিক শিল্প গড়ে তোলার দাবিও রয়েছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ