নজরুল ইসলাম চৌধুরী
২০১৬ সালের ১৯শে মার্চ আমার প্রানপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতিয় নির্বাহী কমিটি ঘোষনার পরবর্তীতে আমি আমার নিজস্ব ফেইসবুক NAZRUL MIZAN আইডিতে পরগাছায় আক্রান্ত আমার নিজ বাড়ীর একটি কাঁঠাল গাছ কি ভাবে ধংশের মুখে পতিত হয়েছিল তা নিয়ে আমার নিজ হাতে তোলা একটি জীবন্ত ছবি দিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। পোস্টের মূল লক্ষ্য ছিল বি এন পির উর্ধতন মহলের নীতি নির্ধারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা — ” সমাজ , দেশ ও দেশের রাজনৈতিক দল ও সংগঠন যদি পরগাছায় কবলে পড়ে তা হলে সমাজ আর দেশ ও দেশের রাজনীতি কোন পথে এগুবে ” ।
সেই সময়তে উক্ত পোস্টটি দেয়ার পেছনে কারন ছিল ১৯৭৭ সাল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিখুঁত দেশপ্রেমী চিন্তা চেতনা আর বহুদলিয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশ জাতির কল্লানে গঠিত রাজনৈতিক দল “জাগদল” গঠন পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর গঠিত আমার প্রানপ্রিয় দল বি এন পি সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে নিজ থানা ও জেলার ১৯৯২ সাল থেকে পর্য়ন্ত ছাত্রদল , যুবদল এবং মূল সংগঠন বি এন পির বিভিন্ন গুরুদায়িত্বে ছিলাম। হাঁ , একটি বিষয় না বললে নয় যে , নব্বই পরবর্তীতে আমি সিলেক্শণ কিম্বা চার দয়ালের বেষ্টনীর টেবিলে কিম্বা পকেট কমিটির ঘোষিত বা নিয়োগপ্রাপ্ত কোন দিয়ত্বে ছিলাম না। ছিলাম গনতান্ত্রিক পন্থায় কনভেন্শান কমিটির কমিটির বিচক্ষণতা আর প্রজ্ঞাশীল চৌখুশ সাংগঠনিক নেতৃত্বে দলের গঠনতন্ত্রের নির্দেশনা মোতাবেক সাবজেক্ট কমিটির শত শত কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে দলের নেতৃত্ব দেয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছিলাম। যা আজো গৌর্বের সাথে নিজেকে ধন্য বলে মনে করি।
১৯৯০ – ৯১ পরবর্তী থেকে ২০২৬ সালের আজকের দিন ক্ষণ পর্যন্ত বি এন পির জেলা , নিজ উপজেলা , নিজ ইউনিয়ন এমনকি নিজের ওয়ার্ডের সিলেক্শন কিম্বা নিয়োগ দেয়া কমিটির নুনঃতম সাধারন সদস্য পদে না থাকা আমার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর সু মহান বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদী আদর্শের একজন বর্তমানে একজন প্রবিন গনতান্ত্রিক ও বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদী আদর্শের আদর্শবান সমর্থক হিসাবে নিজেকে ভীষন গর্বিত মনে করি। সত্যিই আমি গর্বিত। আলহাম্দুলিল্লাহ্।
কেন ২০১৬ সালে পরগাছা নিয়ে জাষ্ট একটি ছবি দিয়ে সেই পোস্টটি দিয়েছিলাম তা আজকের লিখনিতে যদি তুলে ধরতে যাই তা হলে আজকের মুল বিষয় টি অনেকটা চাপা পড়ে যাবে।
হাঁ , যদি মহান আল্লাহ্ সুবহানু ওয়া তালা সহায় হউন ভবিষ্যতে সে সময়ের পরগাছা নিয়ে দেয়া পোস্টের মুল উদ্দেশ্য ( যা আমার জীবনে আজো হৃদয়ের গভীরে অসহনিয় যাতনা অনুভব করি আর বলি — “ইন্নাল্লাহা মাছ সোয়াবেরীন ” ) নিয়ে সন্মানিত পাঠক পাঠিকার উদ্দেশে তুলে ধরব ইনশাহআল্লাহ ।
আজকের পরগাছা নিয়ে এই আর্টিক্যাল আমার প্রানপ্রিয় দল বি এন পির চেয়ারম্যান ( বর্তমান গনপ্রজাতন্ত্রী বালাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ) জনাব তারেক রহমানের সু দৃষ্টি
আকর্ষণঃ ———-
সুজলা সফলা দেশ আমার প্রিয় বাংলাদেশের মাটিতে যেমনি সোনা ফলে , ঠিক তেমনি জন্মায় অনেক অনেক ধংশকারী রাক্ষসী গাছ আর পরগাছা। যেমন , বাংলাদেশে কতগুলো রাজনৈতিক দলের পরগাছা রয়েছে। সেই রাজনৈতিক পরগাছা গুলো শুধু স্বাধীন স্বর্বভৌম দেশ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সকল দুঃখ দুর্দশা আর রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরীর এক জঘন্য নয় বলতেই হয় সেই সকল রাজনৈতিক পরগাছা গুলো হচ্ছে দেশপ্রেমহীনতার আঁকড়া বা প্রতিষ্ঠান ।
পরগাছা একটি ধংশকারী উদ্ভদ। যাহা পোষক ( HOST ) গাছের পানি থেকে শুরু করে সর্বপ্রকারের বলিষ্ঠ পুষ্টি নিতেই জানে দিতে জননে না। কারন দেয়া তার ধর্ম নয়। হাঁ দেয়ার শুধুমাত্র একটি বাস্তবতা আর তা হলো পরগাছা নামের ধংশকারী উদ্ভিদ প্রকৃিত (host) গাছ কে পুঁজি করে নিজের বংশ বৃদ্ধি করে মূল গাছকে আস্তে আস্তে প্রচন্ড দু্র্বল করে আপন মনে ফয়দা লুটে নেয়। যদিও পরগাছা মুল গাছ কে ধংশ করেনা তবুও এক সময়তে মুল গাছ তার সর্ব শক্তি হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পরে।
জীবন মুখি ও রুপক উক্তিতে আছে — ” পরগাছা দিয়ে যেমনি কোনদিন কখনো দামী দামী গাছের বাগান কিম্বা অপরুপ সুজলা সুফলা রবি শষ্য আর ফুলের বাগানের উন্নতি হয়না। উল্টো শারিশারি বৃক্ষ কিম্বা সকল প্রকারের বাগানের চরম ক্ষতি হয়।
দেখা যায় পরগাছার কোন আজন্ম সংযোগ নেই। নেই তার মাটির সাথে কোন সংযোগ। পরগাছা পোষক ( HOST ) গাছের উপর অন্য রাহু বা রাক্ষসী পরগাছা গাছের ঘাড়ে কিম্বা বুকে অথবা শাখা প্রশাখা নামের কাল্পনিক হাতে পায়ে বসত করে পোষক ( HOST ) গাছকে লন্ডভন্ড করে আপন তৃপ্তিতে আকাস পানে উঁকি উঁকিঝুঁকি দিয়ে থাকে।
পরগাছা এবং রাক্ষসী জীব কিন্তু এক নয়। রাক্ষসী জীব অন্য জীবকে তিলে তিলে খেয়ে ফেলে। সুযোগ পেলেই রাক্ষসী তার ছেয়ে বড় জীবকে মুল খাদ্য হিসাবে গ্রহন করে থাকে। অপর দিকে পরগাছা পোষক ( HOST ) গাছ থেকে অপেক্ষা খুবেই ছোট ও দুর্বল হয়ে থাকে। পরগাছা কখোনই তার পোষোক গাছকে স্বমুলে খেয়ে পেলেনা। কারন পরগাছা যদি পোষোক গাছকে বাঁচিয়ে না রাখে তা হলে তার প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করতে অক্ষম হয়ে পড়বে। তাই পোষোক গাছকে কোন রকম বাঁচিয়ে রেখেই তার দেহে বসবাস করে বাঁচিয়ে থাকে।
পরগাছা কিম্বা পরউদ্ভিদ যেমনি খোদা তালার দেয়া প্রকৃতির অশেষ রহমতের ফসল – দামি দামী ও অনেক অনেক মূল্যবান উদ্ভিদ গাছ – যেমন শালগাছ , শেগুন , গামারী , মেহগনি , আকাসি , জাম , আম ও কাঁঠাল গাছ সহ নানন ফলের গাছ এবং বিভিন্ন বনজগাছ পরগাছার গ্রাসে কিম্বা আক্রমনে চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর তাই প্রয়োজন সকল প্রকারের গাছের কিম্বা গাছ বাগানের মালিকদের সময়মত গাছের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করা এবং পরগাছার রোষানল থেকে গাছপলাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথাসময়ে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রগন করা অতিব জরুরী ।
ঠিক তেমনি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক দল যেন কোন অবস্থাতে পরগাছার বেষ্টনিতে বা কবলে না পরে তার জন্য প্রয়োজন স্ব স্ব রাজনৈতিক দলের কর্ণধার ও নীতি নির্ধারকের সজাগ থাকা এবং দলকে পরগাছা মুক্ত রাখার জন্য সদা সতর্কতা ও বিচক্ষণতার সাথে দৃষ্টি রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা।
বলতে দিধা নেই যে – মহান স্বাধীনতা ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরনের পর দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত রক্ষা কবজ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশেষ করে সাংগঠনিক ভাবে ক্রমেই পথ হারিয়ে যেতে চলেছে বলে ব্যাক্তগত ভাবে আমার ধারনা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠতা চেয়ারম্যান শহীদ জিয়াউর রহমান তাঁর দেশপ্রেম আর দুরদর্শিতা ও মেধা আর বিচক্ষণতা সংমিশ্রণে গঠিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে – এই স্লোগান বিশ্বাসী নেতা কর্মির হৃদয়ের গভীরে প্রচন্ড অভাব বলে আমি মনে করি। কারন দলের নিম্ন মহল তথা তৃনমূল থেকে উর্ধতন মহলের নিকটবর্তী কাতার পর্যন্ত রাজনিতিক হওয়ার জন্য শতকরা ৯০ থেকে ৯৫% পর্যন্ত নেতা কর্মীদের নুঃনতম যে আদর্শিক শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন তা অনেকটাই নেই বলে আমি মলে করি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত যে আদর্শিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদী আদর্শের ওয়ার্কশফ টি তাঁর শাহাদাত বরনের পর পর ধীর পায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে।
এমনতর দলিয় ও সাংগঠনিক অবস্থা যদি চলমান থাকে তা হলে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরগাছা বলয়ের প্রভাবে দেশের কোটি কোটি মালুষের প্রানের চাইতে প্রিয় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভবিষ্যৎ চলার পথ কোন পথে এগুবে তা দিনে রাতে স্বয়নে স্বপনে ও জাগরনে ভাবি ——–
লেখক ও কলামিষ্ট
নজরুল ইসলাম চৌধুরী ।
সাবেক সভাপতি – ফেনী জেলা জাতিয়তাবাদী ছাত্রদল













