ময়মনসিংহে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানার-পোষ্টার তৈরী, পুলিশের হানায় আত্মগোপনে মালিক - শীর্ষ খবর
  • আজ দুপুর ১২:০৩, বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ময়মনসিংহে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানার-পোষ্টার তৈরী, পুলিশের হানায় আত্মগোপনে মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬ ৮:৪০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬ ৮:৪০ অপরাহ্ণ

 

আনিসুর রহমান ফারুক
ছবিঃ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের ব্যানার ও পোষ্টার তৈরী হচ্ছিল নগরীর ছোট বাজার আমপট্টী মোড় সংলগ্ন ‘সবুজ প্রাঙ্গন’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে। গোপন সংবাদের এমন অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিতে তাৎক্ষনিক অভিযান চালায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুলিয়ে চম্পট দেয় প্রতিষ্টান মালিক মো: সবুজ রহমান। এনিয়ে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিতর্কিত ‘সবুজ প্রাঙ্গন’ নামক প্রতিষ্ঠানটিতে তালাবদ্ধ অবস্থায় আশপাশে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতেও দেখা গেছে।

এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১১টা থেকে সবুজ প্রাঙ্গনের সামনে অবস্থান নেয় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা।

ময়মনসিংহ প্রেস মালিক সমিতির সভাপতি মো: ফারুক খান পাঠান খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুনেছি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানার ও পোষ্টার তৈরী হচ্ছিল ওই প্রতিষ্ঠানটিতে। এমন অভিযোগে তালাবদ্ধ দোকানের সামনে পুলিশের অবস্থান আছে, তবে পুলিশ আসার আগেই দোকান মালিক প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ করে বেরিয়ে গেছে। এতে প্রেস মালিক সংগঠনের কোন সম্পৃক্ততা নেই, এটি আইন বিরোধী কাজ।

স্থানীয় ব্যবসায়িরা জানায়, সবুজ প্রাঙ্গনে আওয়ামী লীগের ব্যানার ও পোষ্টার তৈরী হওয়ার বিষয়টি গোয়েন্দা সদস্যরা জানার পর পুলিশের নজরে আসে। এ কারণে রোববার রাত থেকে দোকানটিতে পুলিশ পাহাড়া বসানো হয়। বর্তমানে তালাবদ্ধ দোকান মালিক আত্মগোপনে রয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মাহাবুবুর রহমান এবং কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শিবিরুল ইসলাম জানান, সবুজ প্রাঙ্গন বর্তমানে তালা বন্ধ।

অভিযোগ উঠেছে, সবুজ প্রাঙ্গনের মালিক মো: সবুজ রহমান দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলের ব্যানার তৈরী করে তা সরবরাহ করে আসছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এসব ব্যানারে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সরকারবিরোধী মিছিল করতে দেখা গেছে।

এছাড়াও সবুজ রহমানের বিরুদ্ধে আওয়ামী ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জণ রয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অসংখ্য ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আওয়ামীপন্থি সাংস্কৃতিক সংগঠক কাজল কোরাইশি’র আপন শ্যালক। এ কারণে ঘটনার পর থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কাজল কোরাইশি বিএনপি নেতাদের দ্বারস্থ হয়ে পুলিশের কাছে তদবির করছেন বলেও দাবি সূত্রের।

জানতে চাইলে কাজল কোরাইশি বলেন, ঘটনার আংশিক সত্যতা রয়েছে। মূলত পরিচিত এক ব্যক্তি ব্যানার করতে এসেছিল, কর্মচারি সেটি রিসিভ করে কম্পোজও করেছে। তবে বিষয়টি জানতে পেরে কাজটি বন্ধ করে দেয় সবুজ। এখন ভয়ে সে মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছে। এ সময় তিনি আরো বলেন, আমাদের কম্পিউটারে আওয়ামীলীগের বিগত সময়ের অনেক কাজের ডকুমেন্ট রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের কোন কাজ আমরা করি না, বলেও তিনি দাবি করেন।

এবিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো: কামরুল হাসান বলেন, ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা এবং পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ