চেতনায় বাংলাদেশ-এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি : প্ৰতিনিধি
বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট, নাগরিক সমস্যা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘চেতনায় বাংলাদেশ’-এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর শান্তিনগরে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চেতনায় বাংলাদেশ-এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফায়সাল সালাম সাগর। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সভাটি পরিচালনা করেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সভাপতি এস এম মোমো, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আহমেদ আলী, চেতনায় বাংলাদেশ-এর কার্যকরী সভাপতি বাবর আলী বাবরসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভা শুরুতে চেতনায় বাংলাদেশ-এর প্রয়াত জাহাঙ্গীর আলমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শহীদ জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো ও জাহাঙ্গীর আলমের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ আলমগীর হোসেন।
সভায় বক্তারা বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, জনসচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাজধানীর বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
মতবিনিময় সভায় ঢাকাকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি ও হেলদি সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, জনসচেতনতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধারাবাহিক কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষ করে রাজধানীতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে পৃথক কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এসব কমিটির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
সভায় সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় পল্টন ও সূত্রাপুর থানা কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বক্তারা বলেন, একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে শুধু সিটি করপোরেশন বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করলে হবে না; নাগরিক সমাজ, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সাংগঠনিক সম্প্রসারণ, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম জোরদার এবং নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মতবিনিময় সভায় চেতনায় বাংলাদেশ-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।













