শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
কোনো ব্যক্তি বা নেতার হাত শক্তিশালী করলেই দেশ বা দলের সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায় না, রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় তখন—যখন জনগণ সঠিক সময়ে রাজপথে নামে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় রাজনীতি ও দলে এই মুহূর্তে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দলের (পিএনপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নেতাদের খুশি করার রাজনীতির সমালোচনা করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, রাজনীতিবিদরা শান্তিতে থাকবে আর জনগণ শান্তিতে থাকবে না—এ দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। নেতাদের হাত শক্তিশালী করার চেয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করাই মুখ্য। যখন জনগণ রাজপথে নামে, তখনই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা সহজ হয়।
১৭ বছরের আন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কৌশলগত কারণেই যুগপৎ আন্দোলন সৃষ্টি করা হয়েছিল। বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা ছিল আন্দোলনের শরিকদের চিন্তাভাবনারই প্রতিফলন। সাধারণ ছাত্রসমাজ যখন ফ্যাসিবাদের নিষ্ঠুর আচরণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছে, তখনই আন্দোলনের রূপ বদলে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ধর্মব্যবসা দিয়ে রাষ্ট্র চলে না। পাকিস্তান আমলেও ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র ধরে রাখা যায়নি। ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার ইতিহাস মিলেই তৈরি হয় জাতীয়তাবাদী চেতনা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ পরিচয় গঠন করে গেছেন, যা লালন করে দল এগিয়ে যাচ্ছে।
ব্যাংক খাতের করুণ অবস্থা ও ঋণের বোঝা
দেশের বর্তমান অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গয়েশ্বর বলেন, বিগত সরকারের অনিয়ম ও বিদেশে মুদ্রা পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতের আজ করুণ অবস্থা। সাধারণ মানুষ ব্যাংকে গিয়ে নিজেদের আমানতের টাকা পর্যন্ত তুলতে পারছে না। অন্যদিকে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া মেগা ঋণের বোঝা পরবর্তী সরকারকেও বহন করতে হচ্ছে।
স্বাধীনতা রক্ষায় ১৮ কোটি জনগণ ভারতের সাথে সীমান্ত ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে গয়েশ্বর রায় বলেন, পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই সম্পর্ক উন্নয়ন হওয়া উচিত। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আঘাত আসলে তা রক্ষায় কেবল সশস্ত্র বাহিনী নয়, দেশের ১৮ কোটি জনগণ এক হয়ে রাজপথে নেমে আসবে।
বক্তব্যের শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতি পূর্ণ আস্থা জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথেই তারেক রহমান নিরলস পরিশ্রম করে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রাষ্ট্রকে সঠিক পথে ফেরাতে বিএনপিতে এবং এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।
পিএনপির সভাপতি ফিরোজ মোহাম্মদ লিটনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব আহমেদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবদিন ফারুক এমপি, ইসলামী ঐক্য ফোরামের মহাসচিব আব্দুর রহিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।













