শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
শহীদ মাহবুবুর রহমান বাপ্পীর ৩৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর কাটাবনে সংগঠনের কার্যালয়ে শহীদ মাহবুবুর রহমান বাপ্পী স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও দরিদ্র মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে শহীদ বাপ্পীর বোন ঝুমুর আক্তারের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসাসহ নিউমার্কেট থানা বিএনপি, ছাত্রদল এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় শহীদ বাপ্পীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মাহবুবুর রহমান বাপ্পীর জীবন ছিল রাজনৈতিক সক্রিয়তা, গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় নিবেদিত। অল্প বয়সেই তিনি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি নিউমার্কেট থানা ছাত্রদলের নেতৃত্বে ছিলেন এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর সহযোদ্ধা ও স্বজনদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে, তৎকালীন সময়ে গুম, নিখোঁজ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও বাপ্পীর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী, সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ গুম ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং তাঁদের পরিবারের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন বলে স্বজন ও সহযোদ্ধারা জানান।
গুমের শিকার পরিবারগুলোর দাবির প্রতি সংহতি
উল্লেখ্য, বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। পরের বছর ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানা বিএনপির নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ আটজন নিখোঁজ হন। তাঁদের সন্ধানের দাবিতে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের স্বজনদের সন্ধান, সত্য উদঘাটন এবং জবাবদিহির দাবি জানিয়ে আসছেন। পরবর্তীতে গুম ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গড়ে ওঠে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠন, যা নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান ও ভুক্তভোগী পরিবারের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
শহীদ মাহবুবুর রহমান বাপ্পীর জীবনাবসান ঘটে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে রাজধানীর লালবাগের ঢাকেশ্বরী সড়কের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ জানুয়ারি ২০১৫ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর মৃত্যুর পরও পরিবারের সদস্য, স্বজন ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা তাঁর রাজনৈতিক জীবন, আদর্শ ও সংগ্রামের স্মৃতি ধরে রেখেছেন। তাঁর বোন ঝুমুর আক্তারের বিভিন্ন স্মৃতিচারণেও ছাত্রদলের রাজনীতিতে বাপ্পীর সক্রিয় সম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক ভূমিকার কথা উঠে এসেছে।
অমলিন হয়ে আছে স্মৃতি
২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি শহীদ মাহবুবুর রহমান বাপ্পীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর স্মৃতি এখনো সহযোদ্ধা, স্বজন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের মানুষের কাছে অমলিন।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, বাপ্পীর জীবন ছিল একজন তরুণের রাজনৈতিক বিশ্বাস, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি সময়ের রাজনৈতিক আন্দোলন, রাজপথের সংগ্রাম এবং নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার দাবিতে চলা আন্দোলনের ইতিহাস।
কর্মসূচিতে শহীদ বাপ্পীর আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর পরিবার-স্বজনদের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর স্মৃতি থেকে নতুন প্রজন্ম মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধ হওয়ার অনুপ্রেরণা লাভ করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।













