শীর্ষ খবর ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিকেটিটিসি) ও মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে দক্ষ শ্রমিক তৈরির পাশাপাশি বিদেশি ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বিদেশি ভাষা না জানলে সেই দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রেই কাজে আসবে না।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন মিলনায়তনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রামের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রম আদালতের বিচারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘জাপানি, ইংরেজি, আরবি ও কোরিয়ান ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এই সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে যেতে হলে শুধু দক্ষ শ্রমিক তৈরি করলেই হবে না, ভাষাও জানতে হবে। ভাষা না জানলে সেই দক্ষতা অনেক সময় কোনো কাজে আসবে না। বিদেশে গ্রাফিক ডিজাইন ও কেয়ারগিভিং পেশায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এসব খাতে বাংলাদেশের কর্মীদের সুযোগ সম্পর্কে যথেষ্ট প্রচারণা নেই। চাহিদাসম্পন্ন পেশাগুলো সম্পর্কে দেশে-বিদেশে আরও কার্যকর প্রচারের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি যেসব দেশে শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে, সেসব দেশের ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’
এর আগে মন্ত্রী চট্টগ্রামের বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ এবং কেন্দ্রের অন্যান্য কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
তিনি বলেন, সরকার ও বিএসআরএমের সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়নকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চান। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সহায়তা নিয়ে টিটিসিকে আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘জনবল নিতে গেলে আরও ছয় মাস, এক বছর সময় চলে যাবে। এখন আমাদের পেছনে তাকানোর সময় নেই।’ তাই বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের সহযোগিতার প্রশংসা করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে চট্টগ্রামের মেয়র অনেক কাজ করেছেন। চট্টগ্রামের শ্রমিকদের জন্যও তিনি এগিয়ে আসছেন।
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের শ্রম আদালতের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন শ্রমমন্ত্রী। এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ও একজন প্রকৌশলী দিয়ে দ্রুত শ্রম আদালত পরিদর্শন করানো হবে। এরপর আদালতের কনফারেন্স রুম, নারী বিচারপ্রার্থীদের জন্য আলাদা বসার কক্ষ এবং লিগ্যাল এইড-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, চট্টগ্রামের দ্বিতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছা, চট্টগ্রাম প্রথম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ ওসমান গনি এবং বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক হাফেজ আহমদ মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।












