• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

সম্পাদকীয়

আমলাতন্ত্র: ক্ষমতা ও আনুগত্যের বিনিময় ব্যবস্থা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২:২২
আপডেট: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২:২২

আমলাতন্ত্র: ক্ষমতা ও আনুগত্যের বিনিময় ব্যবস্থা

 

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত Bay of Bengal Conversation 2026-এর দ্বিতীয় দিনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলী রীয়াজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি গভীর সংকটের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের একটি অংশ সংস্কারের বিরোধিতা করে এবং রাজনৈতিক প্রভুদের সেবা করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের সংকটের কারণ উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, এক নম্বর হলো রাজনীতিকীকরণ, বিশেষ করে ১৯৯১ সালের পর থেকে পরবর্তী সরকারগুলোর সময়ে। আর ২০০৯ সালের পর এটি সহজ ও সরলভাবেই একটি দলের যন্ত্র হয়ে গেছে। এটি ৪৭ নয়, ৭১ নয়। ইতিহাসের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, এটি রাজনীতিকরণ—ক্ষমতাসীন দলের দিক থেকেও, আবার আমলাতন্ত্রের পক্ষ থেকেও, যারা রাজনৈতিক প্রভুদের অধীন হয়ে চলতে রাজি।
আমলাতন্ত্রকে ‘সংস্কারবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ১৫–১৬ মাস, বিশেষ করে নয় মাস তিনি তাদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বিশাল গণঅভ্যুত্থান ও পুরনো ব্যবস্থাকে জনগণের প্রত্যাখ্যানের পরও তিনি তাদের মধ্যে পরিবর্তনের অনিচ্ছা দেখেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংস্কার ঠেকাতে তারা যত ধরনের বাধা সৃষ্টি করা সম্ভব, তা করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আমলাতন্ত্রের সংস্কারবিরোধী ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রভুদের সেবা করার প্রবণতাকে আড়াল না করে বাস্তবতাকে স্বীকার করতে হবে।
এই বক্তব্যকে শুধু আমলাদের সমালোচনা হিসেবে দেখলে এর গভীরতা ধরা যাবে না। বরং এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে—আমলাতন্ত্র কাদের সেবা করবে—রাজনৈতিক ক্ষমতাকে, নাকি জনগণকে? এটি শুধু প্রশাসনিক নীতির প্রশ্ন নয়; এটি সাংবিধানিক প্রশ্ন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।” অর্থাৎ জনগণের সেবা করা কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তির সাংবিধানিক কর্তব্য।
অতএব তাঁর ব্যক্তিগত আনুগত্য কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক প্রভুর প্রতি হতে পারে না।
সরকারের আইনসম্মত নীতি বাস্তবায়ন এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্য—এই দুটি এক বিষয় নয়।
এই সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে গেলে “সরকারের প্রতি আনুগত্য” ধীরে ধীরে “ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আনুগত্যে” পরিণত হতে পারে।
অতএব রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করতে পারে; কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। সরকার ও রাষ্ট্র এক জিনিস নয়। সরকার পরিবর্তনশীল; রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা তার চেয়ে স্থায়ী। রাজনৈতিক দল সরকার পরিচালনা করতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় আনুগত্যের কাঠামোয় পরিণত করার সাংবিধানিক অধিকার কোনো সরকারের নেই।
কিন্তু যখন আমলাতন্ত্র রাজনৈতিক ক্ষমতার ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে তার সাংবিধানিক চরিত্র হারাতে শুরু করে।
তখন বদলি ও পদায়ন পেশাগত প্রয়োজনের পরিবর্তে আনুগত্যের পুরস্কার বা শাস্তির উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এভাবেই প্রশাসনের ভেতরে জন্ম নেয় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি।
আলী রীয়াজ যে দুটি বিষয় পাশাপাশি রেখেছেন—“সংস্কারবিরোধিতা” এবং “রাজনৈতিক প্রভুদের সেবা”—তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কারণ এই দুটির মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
যে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রশাসনিক সুবিধার পারস্পরিক বিনিময়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, সেই ব্যবস্থা নিজের ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তন করতে আগ্রহী নাও হতে পারে।
তাই সংস্কারবিরোধিতা শুধু ব্যক্তিগত মানসিকতার সমস্যা হিসেবে দেখলে বিষয়টির গভীরতা ধরা পড়ে না। এর পেছনে থাকতে পারে প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, জবাবদিহির দুর্বলতা এবং দীর্ঘদিনের পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক প্রশাসনিক সংস্কৃতি।
এই কারণেই আমলাতন্ত্র সংস্কারের প্রশ্নটি আসলে ক্ষমতার কাঠামো সংস্কারের প্রশ্ন।
রাজনৈতিক প্রভুত্বের সংস্কৃতি তৈরি না হলে রাজনৈতিক তাঁবেদারির সংস্কৃতিও তৈরি হয় না।
রাজনীতিকরা আমলাতন্ত্রকে ব্যবহার করেন ক্ষমতা সংহত করার জন্য; আর আমলাতন্ত্রের সুবিধাভোগী অংশ রাজনৈতিক ক্ষমতার আশ্রয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে। এটি একটি ক্ষমতার বিনিময়ব্যবস্থা।
এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হলো জনগণ।
সরকার রাষ্ট্রের একটি শাসনকারী কাঠামো; কিন্তু সরকার রাষ্ট্রের সমার্থক নয়। সরকার পরিবর্তনশীল, রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে; কিন্তু প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।
অতএব কোনো সরকার আমলাতন্ত্রকে নিজের রাজনৈতিক বাহিনীতে পরিণত করার অধিকার রাখে না। আবার কোনো আমলারও রাজনৈতিক ক্ষমতার আশ্রয় নিয়ে জনগণের ওপর প্রভুত্ব করার অধিকার নেই।
আমলাতন্ত্র রাষ্ট্রের নির্বাহী কাঠামোর অংশ—কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের সরকারের প্রতি প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব থাকবে—কিন্তু সেই দায়িত্ব হবে সংবিধান ও আইনসম্মত নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে। কোনো ব্যক্তি, দল বা রাজনৈতিক প্রভুর ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য তার সাংবিধানিক কর্তব্য নয়।
জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কও বদলাতে হবে।
আজও অনেক নাগরিক সরকারি দপ্তরে গিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রের কাছে একজন অসহায় আবেদনকারী হিসেবে অনুভব করেন।
এটি শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতা নয়; এটি রাষ্ট্রদর্শনের সংকট।
যে কর্মকর্তা জনগণের করের অর্থে বেতন পান, তিনি যদি জনগণের সঙ্গে এমন আচরণ করেন যেন জনগণ তাঁর কাছে দায়বদ্ধ—তাহলে প্রজাতন্ত্রের মৌলিক সম্পর্কটিই উল্টে যায়।
রাষ্ট্র জনগণের অভিভাবক নয়। সরকার জনগণের অভিভাবক নয়। আমলাতন্ত্রও জনগণের অভিভাবক নয়।
সুতরাং কোনো প্রতিষ্ঠানই জনগণের ঊর্ধ্বে নয়।
আমলাতন্ত্র সংস্কার মানে শুধু নতুন কাঠামো তৈরি, নতুন কমিশন গঠন কিংবা কিছু কর্মকর্তাকে বদলি করা নয়।
প্রকৃত সংস্কার মানে ক্ষমতার সংস্কৃতি পরিবর্তন করা।
এর জন্য অন্তত কয়েকটি মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন—
প্রথমত— রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিবর্তে সংবিধান ও আইনের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত— ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভুর প্রতি আনুগত্যের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তৃতীয়ত— নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ কমিয়ে স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
চতুর্থত— নাগরিক সেবাকে অনুগ্রহ নয়, নাগরিকের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে আমলাতন্ত্রকে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক করতে হবে।
একজন আমলা রাজনৈতিক দলের কর্মী হবেন না—এটি যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি তিনি আইন লঙ্ঘন করলে, ক্ষমতার অপব্যবহার করলে বা নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন করলে তাঁর জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।
আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার অর্থ এই নয় যে নির্বাচিত সরকারের কোনো প্রশাসনিক কর্তৃত্ব থাকবে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচিত সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। প্রশাসন সেই সরকারের আইনসম্মত নীতি বাস্তবায়ন করবে।
কিন্তু প্রশাসনকে দলীয় আনুগত্যে বাধ্য করা এবং সরকারের আইনসম্মত নীতি বাস্তবায়ন—এই দুটি বিষয় এক নয়।
এই সীমারেখা স্পষ্ট না হলে “সরকারের প্রতি আনুগত্য” ধীরে ধীরে “ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আনুগত্যে” পরিণত হয়।
রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য তাই আমলাতন্ত্রকে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো নয়; বরং সরকার ও দল, রাষ্ট্র ও সরকার, নীতি ও ব্যক্তিগত নির্দেশ—এই বিভাজনগুলো সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা।
জুলাইয়ের শিক্ষা: সরকার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রের ক্ষমতার চরিত্র পরিবর্তন।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে যদি শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে তার প্রাতিষ্ঠানিক তাৎপর্য সীমিত হয়ে যায়।
জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে রাষ্ট্রের ক্ষমতার চরিত্র, প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি এবং জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো যদি অক্ষত থাকে, শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্ব বদলালেই রাষ্ট্রের চরিত্র বদলায় না।
এ কারণেই জুলাইকে শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের ক্ষমতার চরিত্র ও জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে বুঝতে হবে।
আর সেই রাষ্ট্র রূপান্তরের প্রশ্নে আমলাতন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
আমাদের লক্ষ্য আমলাতন্ত্র ধ্বংস করা নয়। একটি আধুনিক রাষ্ট্র দক্ষ, পেশাদার, জ্ঞানভিত্তিক ও স্থিতিশীল প্রশাসন ছাড়া চলতে পারে না।
তাই আমলাতন্ত্রের সংস্কার মানে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়; একটি বিকৃত ক্ষমতা-সম্পর্কের বিরুদ্ধে সংস্কার।
অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্য তাই আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
কিন্তু সেই সতর্কবার্তাকে কোনো একটি শ্রেণির বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়।
আমাদের দেখতে হবে—রাজনৈতিক ক্ষমতা ও আমলাতান্ত্রিক ক্ষমতার যে পারস্পরিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করেছে, সেটি কীভাবে ভাঙা যায়।
আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক প্রভুর তাঁবু থেকে বের করে সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্রের অধীন আনতে হবে।
তাই রাষ্ট্র রূপান্তরের প্রকৃত লক্ষ্য হতে হবে এমন একটি প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সরকার জনগণের সেবক, আমলাতন্ত্র জনগণের সেবক এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতিটি প্রতিষ্ঠান জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও জবাবদিহিমূলক।
ক্ষমতার মুখ বদলালে সরকার বদলায়;
ক্ষমতার চরিত্র বদলালে রাষ্ট্র বদলায়।
আর জুলাইয়ের প্রকৃত শিক্ষা যদি রাষ্ট্র রূপান্তর হয়, তবে সেই রূপান্তরের একটি অপরিহার্য শর্ত হলো—
রাজনৈতিক প্রভুর আমলাতন্ত্র নয়, আমরা চাই প্রজাতন্ত্রের আমলাতন্ত্র।
লেখক: গীতিকবি [email protected]

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com