• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

রাজনীতি

কে হচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কাণ্ডারি? আলোচনায় একাধিক নাম

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:১০
আপডেট: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:১০

কে হচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কাণ্ডারি? আলোচনায় একাধিক নাম

 

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে। ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর এখন নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক—দুই শীর্ষ পদে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও আলোচনায় রয়েছে একাধিক নেতার নাম।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আমিনুল হক ও মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে বিএনপি। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণার কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

ফলে কমিটি বিলুপ্তির পর থেকেই দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে—নতুন নেতৃত্বে পুরোনো মুখ থাকবেন, নাকি অপেক্ষাকৃত নতুন ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতাদের সামনে আনা হবে।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নেতৃত্ব বাছাইয়ে মাঠের আন্দোলনে ভূমিকা, থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ে যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বিতর্কমুক্ত ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি।

সভাপতি পদে আলোচনায় একাধিক নাম

নতুন কমিটির শীর্ষ পদে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, ড. এম এ কাইয়ুম, সাইফুল আলম নীরব, শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, এস এম জাহাঙ্গীর, মামুন হাসান ও আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার।

শুধু শীর্ষ পদ নয়, সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও একাধিক নাম ঘুরছে। আলোচনায় রয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিন এবং দারুস সালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এ সিদ্দিক সাজু।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, নতুন কমিটি দেওয়ার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা এবং থানা-ওয়ার্ড কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গে নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নেতাদের ভাবমূর্তি।

তিনি বলেন, সম্প্রতি মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুরসহ বিভিন্ন ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকটি কমিটি বিলুপ্ত এবং কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফলে নতুন কমিটি গঠনের সময় শুধু রাজনৈতিক পরিচিতি নয়, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং মাঠপর্যায়ে দলের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় আসবে।

এছাড়া সামনে বড় চ্যালেঞ্জ সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংগঠনিক ইউনিট। এই এলাকার আওতাধীন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় এবং দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নতুন নেতৃত্বকে ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে কমিটি বিলুপ্তির পেছনে সাম্প্রতিক বিতর্ক ও সাংগঠনিক প্রশ্নগুলো সামনে আসায় নতুন নেতৃত্বের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূলের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি হিসেবে আলোচনা রয়েছে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীরের নাম।

জানতে চাইলে তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, কমিটি যেহেতু ভেঙে দিয়েছে, কাজেই সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন কমিটি দরকার দলের জন্য অবশ্যই। আমি আশা করি এবং বিশ্বাস করি যে দলের একজন পরীক্ষিত সৎ, যে দুর্দিনে দল ছেড়ে পালিয়ে যায়নি এবং সুদিনে চরিত্র হারায়নি সেই ধরনের লিডারশিপে দিয়ে ইনশাআল্লাহ ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটি সাজানো হবে।

তিনি বলেন, আমি রাজনীতি করি রাজনীতিক দলের কর্মী। এই দল যখন যেখানে দায়িত্ব দিয়েছে সেখানে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমান কমিটি যেটা বিলুপ্ত হয়েছে সেই কমিটির নামে একজন সদস্য ছিলাম। কাজেই আমাকে যদি দল কোন দায়িত্ব দেয়, অবশ্যই নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে ইনশল্লাহ সে দায়িত্ব পালন করব।

যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন মামুন হাসানও এই পদের গুরুত্বপূর্ণ নাম। জানতে চাইলে তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা রাজনৈতিক মানুষ, দলকে সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করি। দলের দায়িত্ব হলো একটি আমানত। আর এই আমানত রক্ষা করাই আমাদের লক্ষ্য, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আমি ছাত্রদল মহানগরের সভাপতি ছিলাম, যুবদল মহানগরের সভাপতি ছিলাম। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিতে দায়িত্ব পাওয়ার একটা স্বাভাবিক ইচ্ছা বা স্বপ্ন তো মানুষের থাকেই। আমারও স্বপ্ন আছে। বাংলাদেশ রাজনীতিতে ঢাকা মহানগর বিএনপি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এখানে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান এবং কাজ করতে সক্ষম এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটিতে অন্যতম আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের নাম। যদিও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় দল থেকে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে তাকে। তবে শোনা যায় দলীয় আনুগত্য, সক্রিয় রাজনীতি, জনপ্রিয়তা ও দুর্দিনের ভূমিকা রাখায় শেষ মুহূর্তে এই পদে দেখা যেতে পারে তাকে।

জানতে চাইলে সাইফুল আলম নীরব ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি একজন শহীদ জিয়ার সৈনিক এবং খালেদা জিয়ার সৈনিক।

তিনি বলেন, দল যখন যে সিদ্ধান্ত নেবে আমি মনে করি ওটাই চূড়ান্ত। আমি রাজনীতি করি। আমার জন্ম ঢাকাতে। আমি ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সেক্রেটারি ছিলাম প্রায় আট বছর। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি ছিলাম। আমার রাজনীতি ঢাকা কেন্দ্রিক। তারপরও ঢাকায় মহানগরী বিএনপির ব্যাপারে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে ওটাই চূড়ান্ত।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com