আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সুদানে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ড্রোন হামলা ও অন্যান্য আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ। একই সঙ্গে দেশটির সংঘাতের কোনো ‘সামরিক সমাধান নেই’ উল্লেখ করে যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পরিষদ।
সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের ৪৭ সদস্যের মানবাধিকার পরিষদ সুদানের পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। এতে ২৮ সদস্য পক্ষে এবং ১০ সদস্য বিপক্ষে ভোট দেন এবং নয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
প্রস্তাবে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে স্বাধীন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দেশটির মৌলিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সংঘাত চলছে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
প্রস্তাবে সুদান সশস্ত্র বাহিনী ও আরএসএফের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের নিন্দা জানানো হয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচার হামলা এবং বিমান ও ড্রোন হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এসব হামলায় স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাতে ড্রোনের ব্যবহার বেড়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ড্রোন হামলায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সুদানের সংঘাতে বিদেশি হস্তক্ষেপেরও নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার পরিষদ। অবৈধ অর্থায়ন, বেআইনি অস্ত্র সরবরাহ ও বিদেশি ভাড়াটে যোদ্ধাদের উপস্থিতি সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করছে বলে সতর্ক করেছে পরিষদ।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানকারী দল উত্তর দারফুরের রাজধানী আল-ফাশেরে আরএসএফের অবরোধ ও দখলের ঘটনায় ‘গণহত্যার সুস্পষ্ট লক্ষণ’ থাকার কথা জানায়। দীর্ঘ অবরোধের সময় বেসামরিক নাগরিকদের খাদ্য ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা এবং পরে নির্বিচারে হত্যার অভিযোগও উঠে।
তদন্তকারীরা আল-ফাশেরে অ-আরব জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন, ব্যাপক যৌন সহিংসতা এবং চিকিৎসাকেন্দ্র ধ্বংসের ঘটনাও নথিবদ্ধ করেছেন।
এদিকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, দক্ষিণ করদোফানের ডিলিং ও কাদুগুলির মধ্যবর্তী সড়কে তাদের একটি ত্রাণবাহী গাড়িবহরে বিমান হামলায় একজন চালক নিহত হয়েছেন। এতে জীবন রক্ষাকারী খাদ্যসামগ্রীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডব্লিউএফপি জানায়, গাড়িগুলোতে মানবিক সহায়তার চিহ্ন ও সংস্থাটির লোগো ছিল। শনিবারের ওই হামলার এক দিন আগে ডিলিংয়ে খাদ্য বিতরণ শেষে ফেরার পথে সংস্থাটির আরেকটি গাড়ি বিস্ফোরণের শিকার হয়।
সংস্থাটি বলেছে, মানবিক সহায়তা কর্মী ও ত্রাণসামগ্রী কোনোভাবেই হামলার লক্ষ্য হতে পারে না। হামলার ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ডব্লিউএফপি।













