জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ব্যাপারে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান আছে এটা আমরা অস্বীকার করি না। কিন্তু যুদ্ধে কোন অবদান আওয়ামী লীগের নাই। মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগ ছিল না। ছিল ভাষণের সংগ্রামে। মুজিব নগরে একদিনের জন্যেও শেখ মুজিবুর রহমান ভিজিটে যান নাই। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের পুঁজি।
শনিবার (৬ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৩ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে বহুদলীয় গণতন্ত্র শহীদ জিয়া ও আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলাল বলেন, শহীদ জিয়া ও আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিশাল পার্থক্য। যোজন যোজন দূরত্ব। এই দূরত্ব কমানোর দায়িত্ব হচ্ছে বিএনপির। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে যে অবদান রেখেছে সেই অবদান আওয়ামী লীগের পক্ষে রাখা সম্ভব ছিল না এখনো নাই। জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি তিনি তার স্ত্রী সন্তানদেরকে রেখে সরাসরি যুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান হচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সেক্টর কমান্ডার। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ফোর্সের কমান্ডার। জেড ফোর্স হয়েছিল সবার আগে বাকিগুলো হয়েছিল আরো আড়াই মাস পরে।
তিনি বলেন, আপনারা যদি তেলিয়াপাড়া চা বাগানে যান। সেখানে একটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আছে। ওই জায়গায় ৪ এপ্রিল ১৯৭১ সালে জেনারেল ওসমানী, মেজর জিয়া, মেজর শফিউল্লাহ, মেজর রফিক এনাদের সাথে ওই জায়গায় প্রথম মুক্তিযুদ্ধের অগ্রসরানি নিয়ে বৈঠক হয়েছিল। সেখানে একটা প্রস্তাবনা ছিল। ওখানে একটি ছোট্ট বই আকারে আছে ওটা পড়ে দেখবেন। ওই বৈঠকে একটা প্রস্তাবনা ছিল অনতিবিলম্বে আওয়ামী লীগ সহ দেশের যে সকল রাজনৈতিক দল আছে তাদের সাথে যোগাযোগ করে এই মুক্তিযুদ্ধটাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিতে হবে। অর্থাৎ ৪ এপ্রিল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এটা সরকারি দলিল এর স্বীকৃতি।
যুবদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) ভেঙ্গায়। অথচ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। ঢোকার সময় দেখবেন শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান আমলের পাসপোর্ট বাঁধাই করে রাখা আছে। সেই পাসপোর্টে যে জন্মদিন দেওয়া আছে সেই জন্মদিন আর বঙ্গবন্ধু আত্মজীবনী বা অন্য কোন বইতে যে জন্মদিন আছে তার কোন মিল নাই। শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী বইতে শেখ জামালের যে জন্ম তারিখ সেই তারিখের সাথে বর্তমান ইতিহাসের যে তারিখ তার কোন মিল নাই।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনায়লয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা, জাতীয় প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জিয়াউর রহমানের অনুদানে। অথচ আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ বলে মুখে ফেনা তুলে।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, জামাত নেতা আব্দুল হালিম সহ লেবার পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।












