শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
শুক্রবার (৪ আগস্ট) দুপরে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত আন্তঃবিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৬ বালিকা ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, “ক্রীড়া হচ্ছে এমন একটি আনন্দের বিষয়, যা যেকোনও মানুষকে সুখ-দুখের মধ্যেও আনন্দ দিতে পারে। যখন একটি জাতির শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদরা তাদের নৈপুণ্য দেখায় তখন সমগ্র জাতির মন আনন্দে ভরে ওঠে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের সাফল্যের কথা যখন আমরা জানতে পারি, তখন আমাদের মনটা আনন্দে ভরে উঠে এবং মনে হয় যে আমরা পিছিয়ে পড়া জাতি নই।”
তিনি বলেন, “আমাদের সমাজে অনেক বাধা আছে। কিন্তু পৃথিবীর প্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আমাদের মেয়েদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে খেলাধুলার সেক্টরে। মেয়েদের মধ্যে যদি আমরা একজন শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ পাই তাহলে বিশ্বের দরবারে আমাদের মাথা উঁচু করে দেয়। অন্যান্য সেক্টরের নারীদেরকেও উজ্জীবিত করে।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষকে সমানভাবে এগিয়ে যেতে হবে। অন্যথায় আমরা পিছিয়ে যাবো। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টি জোরালোভাবে অনুধাবন করেছেন। এজন্য তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস করেছেন। যে যোগ্য তাকে সম্মান দেখাতে হবে। প্রতিটি মহানগর, জেলায় জেলায় এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, কিন্তু ক্রীড়ায় তাদের অংশগ্রহণ যদি মাত্র পাঁচ ভাগ বা ১০ ভাগ হয়, তাহলে সমাজ এগোবে না। আমরা পিছিয়েই থাকবো। নারীদের অংশীদারত্ব সর্বত্র সমান থাকতে হবে। খেলাধুলার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশর প্রতিনিধিত্ব করতে হবে, সুনাম অর্জন করতে হবে।”
বাংলাদেশে একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্বাগত ভাষণে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, “উগ্র রক্ষণশীলতা, ধর্মান্ধতা, এবং জান্নাতের টিকেট বিক্রয়কারী শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মেয়েদের খেলাধুলার কোনও বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম এবং ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।
উল্লেখ্য, এই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দেশের কিশোরী ফুটবলারদের সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নতুন দরজা খুলছে। এই প্রথম আয়োজিত হয়েছে আন্তঃবিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৬ বালিকা ফুটবল প্রতিযোগিতা।
দেশের ৮ বিভাগের ১৬ জেলার প্রায় ৩০০ কিশোরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। জেলাগুলো হলো— টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা, খুলনা, জয়পুরহাট, রাজশাহী, মৌলভীবাজার, সিলেট, পিরোজপুর ও রংপুর।











