জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ঠাকুরগাঁওয়ে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট ‘চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ’ জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে ঢাকাস্থ ঠাকুরগাঁওবাসী। শনিবার (১৯ এপ্রিলে) বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করে তারা।
মানববন্ধনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঠাকুরগাঁও উন্নয়ন ফোরামের সম্মানিত চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঠাকুরগাঁও শুধু একটি জেলা নয়, এটি একটি বিস্তৃত জনপদের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। পাশ্ববর্তী সর্বসীমান্ত জেলা পঞ্চগড় সহ আমাদের এ অঞ্চলের প্রায় ৪০ লক্ষধিক মানুষ আধুনিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। আমাদের এখানে নেই আইসিইউ, নেই সিসিইউ, নেই কার্ডিয়াক বা নিউরো ইউনিট। একটি হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেইন স্ট্রোক মানেই জীবন ঝুঁকিতে পড়া।
‘আমরা চাই, এই হাসপাতাল ঠাকুরগাঁওয়েই হোক—এটি কেবল উন্নয়ন নয়, এটি জীবন রক্ষার দাবি। পাশাপাশি এটি ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও আশেপাশের অঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এই হাসপাতাল হবে আমাদের চিকিৎসা স্বাধীনতার প্রতীক।’
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)-এর সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যে জেলায় একটি আইসিইউ পর্যন্ত নেই, সেখানে আন্তর্জাতিক হাসপাতাল স্থাপন না করা শুধু অবিচার নয়, এটি জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার প্রশ্ন। ঠাকুরগাঁওয়ে হাসপাতাল স্থাপন হলে অন্তত তিনটি জেলার হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচবে।’
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফারুক হাসান বলেন, চিকিৎসা শুধু বড় শহরের মানুষের একচেটিয়া সুবিধা হতে পারে না। ঠাকুরগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক হাসপাতাল স্থাপনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা আরও বিকেন্দ্রীকৃত হবে এবং স্বাস্থ্য পর্যটনের দিকেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বেলাল হোসাইন তার বক্তব্যে বলেন, এই হাসপাতাল শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, বরং একটি অঞ্চলের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। সরকারের উচিত, এই দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।
মানববন্ধনে ঢাকাস্থ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি এ পারভেজ লাবু ঠাকুরগাঁওয়ে এ হাসপাতাল নির্মানের নানা যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
কেন ঠাকুরগাঁও-ই উপযুক্ত স্থান?
*সীমান্তবর্তী জেলা, সহজে রোগী আগমন সম্ভব (নেপাল, ভুটান, ভারত সীমান্ত সংযোগ)
*রংপুরে, নীলফামারী ও দিনাজপুরে ইতোমধ্যেই সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে
*সহজ জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশবান্ধব এলাকা
*প্রস্তাবিত ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর, বিদ্যমান রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক
*পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নীলফামারীর জনগণ উপকৃত হবে
তারা আরো উল্লেখ করেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১০০০ শয্যা বিশিষ্ট, নীলফামারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। সুতরাং ঠাকুরগাঁও ই উপযুক্ত।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “এই দাবি এখন আর কেবল অনুরোধ নয়—এটি অধিকার”। চীন সরকারের সহযোগিতায় এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ঠাকুরগাঁওয়ে স্থাপিত হলে তা কেবল চিকিৎসা নয়, একটি অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠবে।
উল্লেখ্য, চীন সরকার বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের ১,০০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশের স্বাস্থ্য খাতে এটি একটি যুগান্তকারী সুযোগ। কিন্তু সম্ভাব্য স্থান হিসেবে কয়েকটি এলাকার নাম আলোচনায় থাকলেও ঠাকুরগাঁওয়ের মতো একটি সীমান্তবর্তী, চিকিৎসা সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের দাবি এখন জাতীয় পর্যায়ে জোরালোভাবে উঠছে।












