• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

রেলওয়ের প্রকৌশলী আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫ ৩:১৩
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫ ৩:১৩

96665

রেলওয়ের প্রকৌশলী আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে রেল উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। হরিদাস হাওলাদার শিপন নামে এক ব্যক্তি এই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, আহসান হাবিৰ বর্তমান ঢাকার বিভাগীয় প্রকৌশলী-২। তিনি ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ থাকাকালীন সময়ে দাপ্তরিক প্রাক্কলন অনুমোদন ব্যতীত একইসাথে ৮২টি টেন্ডার বাগিয়ে নেন। ৮২টি টেন্ডারের মধ্যে অধিকাংশই ছিল বাসা-বাড়ি মেরামত, ড্রেন মেরামত, রেল ফেন্সিং, পাইপ লাইন মেরামত ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় এবং লুকায়িত (unseen) কাজ। প্রতিটি কাজের জন্য বিভিন্ন ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিনি ২ লাখ টাকা করে ঘুষ নেন। এসব কাজের জন্য যে বাজেট প্রয়োজন তা সেই সময়ে বরাদ্দ ছিল না। কাজের ফান্ড অপ্রতুল থাকার পরও তিনি অপ্রয়োজনীয় কাজ করান। যার কারণে সেসব কাজের বিল এখন দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া টেন্ডার করা সেসব কাজের মধ্যে কোনোটিই বাতিল করা হয়নি, বরং আস্তে আস্তে সেগুলোর এগ্রিমেন্ট করে কাজ না করিয়েই ঠিকাধারদের বিল প্রদান করা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির রিপোর্টে উক্ত বিষয়সমূহ আমলে নেওয়া হয়নি। বরং পরিকল্পিতভাবে সেসব অবৈধ টেন্ডারসমূহকে বৈধতা দেওয়া হয়। এরমধ্যে এসএস এ./ই ওয়াটার ওয়াকস/চট্টগ্রাম আবু হানিফ পাশা এবং এস এস এ.যি ওয়াটার ওয়াকস/পাহাড়তলী মো.সোহেল রানা এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হলেও তারা এখোনো বহাল তবিয়তেই আছে। এসব পরিকল্পিত দুর্নীতির সাথে তৎকালীন এ.সি.ই ট্যাফ/পূর্ব (বর্তমান ডি আর এম-ঢাকা) মহিউদ্দিন আরিফ জড়িত।

জানা যায়, দূর্নীতির তথ্য থাকা স্বত্ত্বেও মহিউদ্দিন আরিফ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আহসান হাবিবের দুর্নীতির বিষয় ধামাচাপা দেন। পরবর্তীতে তিনি (মহিউদ্দিন আরিফ) ঢাকার ডি আর এম এর দায়িত্ব নেওয়ার পর তার পুরানো সহচরকে (আহসান হাবিব) ঢাকা ডিভিশনে তদবির করে নিয়ে আসেন।

অভিযুক্ত আহসান হাবিব লালমনিরহাটের ডি.ই.এন হিসাবে যোগদানের পর আরও বড় ধরনের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তার মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থেকে চিলমারী পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার ট্রাক মেইনটেনেন্স এর কাজ পায় বিশ্বাস কনট্রাকশন যার এগ্রিমেন্ট মূল্য প্রায় ৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশাল অঙ্কের মাটির কাজ ধরা ছিল, যা এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী ঠিকাদার আউটসোর্স করবে, অর্থ্যাৎ রেলওয়ের বাইরের সোর্স থেকে মাটি আনবে। কিন্তু আহসান হাবিব রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় মাটি রেলওয়ের ভূমি থেকে উত্তোলন করিয়ে ঠিকাদারকে কোটি টাকা লাভ করিয়ে তা ভাগবাটোয়ারা করে নেন।

এছাড়া গাইবান্ধা জেলার ছাদুল্লাপুরে রেলওয়ের জমি থেকে একশতাধিক গাছ কেটে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেন আহসান হাবিব। তিনি ডি.ই.এন-লালমনিরহাট থাকা অবস্থায় ব্যালাস্টের কাজ, রোড কার্পেটিং ও বাসাবাড়ী মেরামতের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ঠিকাদারদের সাথে যোগসাযোগ করে বিল উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করে নেন।

এসব বিষয়ে অভিযোগকারী হরিদাস হাওলাদার শিপন বলেন, কাজ দেওয়ার নাম করে আমার কাছে থেকে দুই ধাপে ৪ লাখ টাকা নিয়েছে। টাকা দেওয়ার দীর্ঘদিন হলেও আমাকে কাজ দেয়নি। কাজ না দেওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তিনি টাকা দেওয়ার নামে টালবাহানা করেন। এই নিয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকার বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, অভিযোগ অনেক থাকে। তবে এই বিষয়ে পরে কথা বলি আমি একটা মিটিংয়ে আছি। পরে আপনাকে সবকিছু বলবো।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com