জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
পৌষের হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সাংগঠনিক ডাকে রাজধানী ঢাকা গেলেও, রোববার দুপুরে নিজ ‘খাসতালুকে’ পা রাখতেই জেলার রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ জানান, রোববার দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা মির্জা ফখরুলের। এরপরই নির্বাচনি বিধি মেনে প্রচারণা শুরু করবেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের পথচলা মির্জা ফখরুলের জন্য খুব একটা মসৃণ নয়। তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। ত্রয়োদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি সূ² ধর্মীয় মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি এবং ‘গণ-মামলার’ মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোকে প্রচারের হাতিয়ার হিসাবে বেছে নিয়েছে জামায়াত।
অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন তরুণ এই প্রার্থী। জবাবে পোড়খাওয়া রাজনীতিক মির্জা ফখরুলও বিমানবন্দর চালুর অঙ্গীকার করেছেন এবং আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলছেন, ‘এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন।’
বয়সের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়লেও ঠাকুরগাঁওয়ের মাটির সঙ্গে ফখরুলের টান অনেক গভীর। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি আজও ‘প্রিয় স্যার’। তবে এই ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতের নবীন প্রার্থী। চন্ডিপুর গ্রামের আব্দুল কাদের কিংবা রেদওয়ান সাহার মতো সাধারণ ভোটাররা বলছেন, ‘তরুণ তুর্কি হিসাবে জামায়াত প্রার্থী তো নতুন, দেখা যাক সময় কী বলে।’
নির্বাচনি মাঠে ধর্মীয় আবেগের অতিব্যবহারে উদ্বিগ্ন অন্য রাজনৈতিক দলগুলো। সিপিবির জেলা সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ধর্মীয় আবেগ উসকে দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছে। সাধারণ মানুষ এতে বিরক্ত হলেও ‘মব সন্ত্রাসের’ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।’
তবে শহরের রিকশাচালক রফিকুল ইসলামের মতো সাধারণ মানুষ এখনও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। তাদের মতে, ‘এখন প্রার্থীর লড়াই চলছে, ভোটবাক্সেই সব পরিষ্কার হবে।’
অভিজ্ঞতার পাহাড় সমান মির্জা ফখরুলের বিপরীতে জামায়াতের নবীন প্রার্থীর এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।












