• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জামালপুর-৩ আসনে ঘরে-বাইরে চ্যালেঞ্জে বিএনপি

প্রকাশ: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:৩৩
আপডেট: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:৩৩

96333326 2

জামালপুর-৩ আসনে ঘরে-বাইরে চ্যালেঞ্জে বিএনপি

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা ও যমুনা-ব্রহ্মপুত্র বিধৌত জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসনের সংখ্যা পাঁচটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ জেলায় বইছে ভোটের হাওয়া। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা বেশ প্রাণচঞ্চল ও উজ্জীবিত।

অন্যদিকে দীর্ঘ দেড় দশক পর পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন জানাতে ভোটের দিনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন ভোটাররা। ১৯৭৮ সালে জেলায় উন্নীত হওয়ার পর থেকে এখানে আধিপত্য ছিল বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির। বিগত ১৫ বছর বাদ দিলে জেলার পাঁচটি আসনে স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই সমহারে আসন পেয়ে আসছে। এবার নিজেদের হারানো আসনগুলো পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্যতম মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর-৩ আসন। এ আসনে প্রার্থীর ছড়াছড়ি, রয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীও। বিএনপি-দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দল থেকে পদত্যাগ করে অন্য দলে গিয়ে প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছেন এক নেতা। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিভক্তির ফলে ঘরে-বাইরে চ্যালেঞ্জে পড়েছে বিএনপি। দুটি উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত হওয়ায় উপজেলাভিত্তিক প্রার্থীদের আঞ্চলিক সমর্থন প্রভাব ফেলবে ভোটের মাঠে। প্রচারে থেমে নেই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও।

জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে গত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আটবার, বিএনপি দুবার, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ একবার এবং জাতীয় পার্টি একবার নির্বাচিত হয়। এ আসনে টানা সাতবার সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। তিনি একবার প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় এ আসনটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এবার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র মিলে মোট ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহসম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মির্জা আজমের কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। আসনটিতে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি-দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় তার প্রার্থিতা এখন চূড়ান্ত। দলীয় নেতা-কর্মীরা তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

তবে এ আসনে মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তিনি তার মনোনয়নপত্রের বৈধতা ফিরে পান। দল থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন রাজনীতি সচেতনরা। সে ক্ষেত্রে নিজ ঘরের বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে বোঝাপড়া করে দলের পক্ষে টানতে ব্যর্থ হলে নির্বাচনের মাঠে বেকায়দায় পড়বেন বিএনপি-দলীয় প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। এদিকে দল থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন দৌলতুজ্জামান আনছারী। এরপর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদান করেই তিনি এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যান। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তার বেশ পরিচিতি ও কর্মী-সমর্থক রয়েছে। তার মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় নেতা-কর্মীরা দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে স্বপ্ন দেখছেন।

এ আসনে নির্বাচনি মাঠে জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত একক প্রার্থী জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদী। তার মনোনয়নপত্রটিও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করেন। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে বৈধতা ফিরে পান তিনি। জামায়াতে ইসলামীর দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা আসনটি নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া হয়ে মাঠে নামছেন।

বামধারার রাজনীতিবিদ গণমুক্তি ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শিবলুল বারী রাজু এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর যাচাই-বাছাইয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। তিনি ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাস্তে প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন।

নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রার্থী ও জামায়াতের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে। দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত

জামালপুর-৩ আসনে মাদারগঞ্জ উপজেলা থেকে দুজন ও মেলান্দহ উপজেলা থেকে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নিজ নিজ উপজেলায় সংসদ সদস্য পদটি ধরে রাখতে উপজেলাভিত্তিক প্রার্থীদের আঞ্চলিক সমর্থন ভোটের হিসাব পাল্টে দিতে পারে। রাজনৈতিক দলের বাইরেও নিজ নিজ উপজেলার আধিপত্য বজায় রাখতে চান স্থানীয় ভোটার ও সমর্থকরা। এ ক্ষেত্রে নিজ এলাকায় স্থানীয় আধিপত্যের অনুভূতি ব্যবহার করে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এসব সমীকরণ বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনি মাঠে নামতে হবে প্রার্থীদের।

এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির মীর সামসুল আলম, গণঅধিকার পরিষদের রুবেল মিয়া ও লিটন মিয়া, গণসংহতি আন্দোলনের ডা. ফিদেল নঈম। তা ছাড়া দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সব প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন।

জামালপুর-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৫৮ ও নারী ভোটার ২ লাখ ৬৫ হাজার ২৩৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের রয়েছেন ৬ জন ভোটার।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com