• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

ব্যক্তির চেয়ে দল বড় বহুল প্রচলিত এই প্রবাদ যেন উল্টো হয়ে আছে সিলেট

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:০৫
আপডেট: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:০৫

9602 4

ব্যক্তির চেয়ে দল বড় বহুল প্রচলিত এই প্রবাদ যেন উল্টো হয়ে আছে সিলেট

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। বহুল প্রচলিত এই প্রবাদ যেন উল্টো হয়ে আছে সিলেট অঞ্চলের ভাটি এলাকাখ্যাত সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) নির্বাচনি এলাকায়। দল নয়, ব্যক্তিই যেখানে ভোটে জেতার শক্তি! সেই শক্তিতে একটি নামই প্রোজ্জ্বল। টানা সাতবার নির্বাচন করা বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অনুসারীদের সমর্থনই ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। এ আসনে সুরঞ্জিতের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নাছির চৌধুরী সেই সমর্থনের একটি বিরাট অংশ পেতে যাচ্ছেন বলে আলোচনা রয়েছে। বলা হচ্ছে, ছায়া নয়, সুরঞ্জিত প্রচ্ছায়ায় অগ্রগামী নাছির চৌধুরী।

সুনামগঞ্জ-২ আসনে এমন চিত্র থাকলেও সরাসরি ছায়া-কায়ায় আছে সিলেট ও সুনামগঞ্জের আরও তিনটি নির্বাচনি এলাকা। এগুলো হলো, সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ), সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) ও সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-তাহিরপুর-মধ্যনগর) আসন। তিনটি আসনে যথাক্রমে সিলেট-৪ আসনে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছায়া পড়েছে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর ওপর। বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর ছায়ায় আছেন তার স্ত্রী বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর। সুনামগঞ্জ-১ আসনে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেনের হাতেখড়ির নেতা বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল।

ছায়ায় আরিফ-লুনা-কামরুল
সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করেছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। বিএনপি সরকারের ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টেকনোক্র্যাট অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিএনপির রাজনীতিতে অভিষেক হয় তার। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। সিলেট বিভাগ প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের রূপকারখ্যাত এই রাজনীতিবিদ প্রথম নির্বাচন করেন ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালে সিলেট-৪ আসনে। পরে ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ ও নিজ এলাকা মৌলভীবাজার-৩ আসনে নির্বাচন করে বিজয়ী হন।

২০০১ সালে সিলেট-১ ও মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সিলেট-৪ ও সিলেট-১ আসনে সাইফুর রহমানের নির্বাচন পরিচালনায় ছিলেন এবারকার সিলেট-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী ও সিলেট সিটির সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। নির্বাচনি প্রচারের শুরুতে আরিফ তার প্রথম লিফলেটে দলীয় প্রধানের সঙ্গে এম সাইফুর রহমানের ছবি সেঁটে সাধারণ ভোটারদের দৃষ্টি কাড়েন। নির্বাচনি প্রচার সমাপ্তির সমাবেশে আরিফুল হক চৌধুরী প্রয়াত নেতা এম সাইফুর রহমানের উন্নয়নযজ্ঞ সিলেট-৪ আসনে প্রয়োগ করার অঙ্গীকার করেছেন।

আরিফুল হক চৌধুরীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এ আসনটিতে লড়ছেন জামায়াত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন। সুষ্ঠু ভোট হলে মানুষ বিরাট বিজয় উপভোগ করার অপেক্ষায় আছেন জানিয়ে আরিফুল হক বলেন, ‘তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট বিভাগের একটি বড় নির্বাচনি এলাকা হচ্ছে সিলেট-৪ আসন। আমি আমার নেতাকে (এম সাইফুর রহমান) নিয়ে সেই ৯৬ সালে নির্বাচনি এলাকা ঘুরেছি। সেই অভিজ্ঞতা এবার নিজের বেলায় প্রয়োগ করেছি। দুঃখ হলো এলাকাটিতে বিগত সরকার আমলে উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও লাগেনি। এ জন্য আমি আমার নেতার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিচ্ছি। নির্বাচিত হলে সিলেট-৪ আসনকে উত্তরসিটি রূপে গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

ভোটের মাঠে আরেক ছায়া ও মায়ায় আছেন সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী। সিলেট-২ আসনে ২০০১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এম ইলিয়াস আলী। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থাকা অবস্থায় ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গাড়িচালক আনসার আলীসহ তিনি ‘গুম’ হন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই। রাজনীতিবিদ স্বামীর অবর্তমানে তাহসিনা রুশদীর লুনা তার নির্বাচনি এলাকায় তৎপর রয়েছেন। ইলিয়াসের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে লুনা ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন।
তৎকালীন নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করেছিল। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে থাকা তাহসিনা রুশদীর লুনা ভোটের মাঠে প্রায় এক যুগ ধরে তৎপর।

এ আসনে লুনার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে আছেন ১১ দলীয় জোটের খেলাফত নেতা মুনতাসির আলী। দলীয় ও সাধারণ ভোটাররা বলছেন, সেখানকার ভোটের মাঠে ইলিয়াস আলী নামটি এতটা প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে যে, তাহসিনা রুশদীর লুনা তার প্রতিটি নির্বাচনি জনসভায় ইলিয়াস আলীর অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। প্রচারে ইলিয়াস আলীর সন্তান-সহোদর ও স্বজনরাও অংশ নিচ্ছেন। ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক সক্রিয়তার সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকা সাবেক ছাত্রনেতা এ টি এম হেলাল বলেন, ‘মানুষের মনে ছায়া-কায়া-মায়ায় ইলিয়াস আলী নামটি আসছে। ভোটে জেতার নিয়ামক তিনি।’

ভোটের মাঠে আরেক ছায়া ও মায়ায় আছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল। এ আসনটিতে একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন প্রয়াত নজির হোসেন। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মোট পাঁচবার এ আসনটিতে নির্বাচন করেছেন। সর্বশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান খ্যাত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পরাজিত করেছিলেন। ভোটের রাজনীতিতে সেই হার-জিত ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বলা হয়েছিল ‘নজিরের নজিরবিহীন বিজয়’।

জানা গেছে, নজির হোসেন বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে শীর্ষ নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাংগঠনিক দক্ষতার জনপ্রিয়তায় নজির হোসেনে দলীয় কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

২০২৪ সালের ২৮ মার্চ আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার অকস্মাৎ মৃত্যু নির্বাচনি এলাকায় দলমত নির্বিশেষে মানুষকে শোকাহত করে। এ আসনটিতে উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির মনোয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তার স্ত্রী সালমা নজির। প্রথম দফা বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হক। এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সংযুক্ত মনোনয়নের মাধ্যমে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পান সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল।

সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেনের মাধ্যমে ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতিতে হাতেখড়ি কামরুলের। এ আসনটিতে নজির হোসেনের ছায়ায় আছেন জানিয়ে প্রয়াত সংসদ সদস্য নজির হোসেনকে ‘রাজনৈতিক গুরু’ আখ্যা দিয়ে কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘আমার গুরুর ভোটের রাজনীতিতে ২০০১ সাল থেকে সক্রিয় ছিলাম। সেই সব অভিজ্ঞতা এখন নিজের বেলায় প্রয়োগ করেছি। তার ছায়া-মায়ায় পথ চলছি।’ তার নির্বাচনি প্রচারে নজির হোসেনের সহধর্মিণী সালমা নজিরের অংশগ্রহণকে কামরুল ‘গুরুর ছায়া’ বলে মন্তব্য করেন। সুনামগঞ্জ-১ আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী হলেন তোফায়েল আহমদ খান। ভোটে ১১ দলীয় জোট সেখানে উন্মুক্ত।

সুরঞ্জিত প্রচ্ছায়ায় নাছির
জীবদ্দশায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বীখ্যাত রাজনীতিবিদ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী দীর্ঘ অসুস্থতা কাটিয়ে ভোটের মাঠে নামতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। তার সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন প্রকাশ পেতে থাকে। সবশেষ গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুবার্ষিকীতে নাছির চৌধুরীর সমব্যাথী ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় ‘সুরঞ্জিত প্রচ্ছায়া’ ভর করে।

ভোটের মাঠে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সুরঞ্জিতের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া রাজনীতিবিদ নাছির চৌধুরী ছাত্রজীবনে সিলেটের এমসি কলেজ ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি ছিলেন। ১৯৮৫ ও ১৯৮৯ সালে দুবার দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির হয়ে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে বিএনপিতে যোগ দেন। ভোটের রাজনীতিতে ‘ভাটির শার্দুল’ অভিহিত নাছির চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে এখন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে আছেন।

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে সুরঞ্জিতকে হারিয়ে তখন জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নাছির চৌধুরী প্রথম সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। প্রায় ৫৯ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি। সুরঞ্জিত পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ৪৯৬ ভোট। নাছির পেয়েছিলেন ৪৮ দশমিক ৭, সুরঞ্জিত ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০০১ সালে বিজয়ী সুরঞ্জিত ৮২ হাজার ৮৩৯ ভোট পান। প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৫৫ শতাংশ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নাছির চৌধুরী পেয়েছিলেন ৬৬ হাজার ৫৫৮ ভোট। প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৪৪ দশমিক ২। ২০০৮ সালে বিজয়ী সুরঞ্জিতের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৯৫ হাজার ৫৯৩ ভোট। প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৫৫ দশমিক ১। নাছির ৭৭ হাজার ৮৮৯ ভোট পান। প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৪৪ দশমিক ৯।

২০১৪ সালে ‘ভোটে’ জেতার পর সুরঞ্জিতের জীবনে আর কোনো নির্বাচন করার সুযোগ হয়নি। তার মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে উপনির্বাচনে দেখা গেছে, তার স্ত্রী জয়া সেনগুপ্ত ২০০৮ সালে বিজয়ী সুরঞ্জিতের জেতা অঙ্কের চেয়ে বেশি ভোট পান। ৯৫ হাজার ৯৫৯ ভোট পেয়েছিলেন জয়া সেনগুপ্ত। সর্বশেষ ২০২৪-এর ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়া সেনগুপ্ত (কাঁচি প্রতীক) ৮০ হাজার ১৩৯ ভোট পেয়েছিলেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আল আমিন চৌধুরী পেয়েছিলেন ৫৪ হাজার ৯৯৮ ভোট। দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ২৫ হাজার ১৪১ ভোট।

এ আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনির। বিশ্লেষকরা বলছেন, নাছির চৌধুরীর ভোটে সুরঞ্জিতের ভোট যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনায় জয়ের অঙ্ক কষা সহজ হয়ে উঠছে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com