জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ হাজার ২৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের ছেলে ওমর ফারুক। এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ।
ছেলের পরাজয়ের পর কর্নেল অলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। ভিডিও বার্তাটি শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কর্নেল অলি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করলেও বিভিন্ন কেন্দ্রে নির্বাচনী কারচুপি ঘটেছে। বিশেষ করে হাশিমপুর তরুণ সংঘ স্কুল, হাশিমপুর বড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দোহাজারী আবদুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার পর অপরিচিত কয়েকশ ব্যক্তি জোরপূর্বক ব্যালট বাক্সে ভোটপত্র ঢুকিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে তার দলীয় নেতা-কর্মীদের কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়, মারধর করে বের করে দেয়। প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমেদ ৬-৭টি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেছেন এবং সন্ধ্যার আগে ও পরে প্রায় ৩০–৪০টি মাইক্রোবাস ও ট্রাক নিয়ে উপজেলা সদর এলাকায় মিছিল পরিচালনা করেছেন। সেখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তাকে বাধা দেওয়া হয়নি।
ভিডিও বার্তায় কর্নেল অলি জানান, তার কর্মীদের সুশৃঙ্খল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা একতরফাভাবে কাজ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার ছেলে ও প্রার্থী ওমর ফারুকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ভোট বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের এজেন্টরা চ্যালেঞ্জ করেছেন, কিন্তু বাতিলের কারণ দেখানো হয়নি।
কর্নেল অলি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে ওমর ফারুককে পরাজিত করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, “আপনারা যদি মনে করেন প্রফেসর ওমর ফারুক পরাজিত হয়েছেন, ড. কর্নেল অলি আহমেদ পরাজিত হয়েছেন—আমরা পরাজিত হইনি। আল্লাহর মেহেরবানি, আমার নবীর দয়া—মুক্তিযোদ্ধা কখনো পরাজিত হয় না, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কখনো পরাজিত হয় না। পরাজিত হয়েছে টাকা এবং কিছু নির্বাচনী এলাকার লোক।”
তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে দিন কাটানোর অনুরোধ করছি। কারও সঙ্গে কোনো ঝগড়াঝাটির প্রয়োজন নেই। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু উশৃঙ্খল ব্যক্তি তার কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তবুও প্রশাসন নীরব রয়েছে। কর্নেল অলি বলেন, ওমর ফারুকসহ যারা এক থেকে দেড় হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন, সেটি সুপরিকল্পিতভাবে এবং সূক্ষ্মভাবে করা হয়েছে।
পরিশেষে তিনি বলেন, “আমি সারাজীবন মানুষের খেদমত করেছি। এই খেদমত মরণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আমার ছেলে সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে। নির্বাচনে জিতলাম কি জিতলাম না—এতে কিছু আসে যায় না। জনগণের সেবায় আমি এবং আমার পরিবার সর্বদা নিয়োজিত থাকব। আপনাদের সুন্দর জীবন ও সাফল্য কামনা করি। সবাই উশৃঙ্খলতা পরিহার করুন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকুন।”
ফলে, ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ঘোষিত ফলাফলে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট, আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দল সমর্থিত ছাতা প্রতীকের ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।












