• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করল বিএনপি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:১৪
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৩:১৪

96587458 1

আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করল বিএনপি

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংকিং সেক্টরসহ আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা নিয়ে আসতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব প্রদান করেন। আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দিয়ে আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করল বিএনপি সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে দলটির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

বার্তায় তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনতে অনেকটাই সফল হন তিনি। ব্যাংকিং খাতে বেশকিছু সংস্কার সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে আর্থিক খাত কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।

নাহিদ বলেন বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে অত্যন্ত দৃঢ় পদক্ষেপ নেন আহসান এইচ মনসুর। বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের মানুষের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার বন্ধের উদ্যোগও নেন এই অর্থনীতিবিদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগও নিয়েছিলেন আহসান এইচ মনসুর। যা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ব্যাংকিং সেক্টরে সরকার দলীয় ব্যবসায়ীদের নগ্ন হস্তক্ষেপ মোটা দাগে বন্ধ করা সম্ভব হতো। এসব সংস্কারের কারণে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর লুটপাটের পথ কিছুটা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের ওপর তারা ক্ষিপ্ত ছিলেন।
আহবায়ক বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দখল ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা শুরু করেন বিএনপি-আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তারা। ব্যাংকের বিধির তোয়াক্কা না করে হঠকারিতা শুরু করেন তারা। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিএনপি-আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তাদের নির্লজ্জ মবের সাক্ষী হয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গভর্নরের উপদেষ্টাকে রীতিমতো শারীরিক হেনস্তা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বের করে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, এই ন্যাক্কারজনক হামলার নেতৃত্ব দেন নওশাদ মোস্তফা, সারোয়ার, মাসুম বিল্লাহ, গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ বেশকয়েকজন কর্মকর্তা। এরা ব্যাংকের অভ্যন্তরে বর্তমানে নতুন করে বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত। এদের মধ্যে মাসুম বিল্লাহ ও গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ আওয়ামীপন্থী নীল দল থেকে নির্বাচন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে সরকার সফল গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী কায়দায় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, তাকে না জানিয়েই নতুন গভর্নর নিয়োগ দেয়, যা অত্যন্ত অপমানজনক। এর মধ্য দিয়ে গত কয়েকদিনের ঘটনার সঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সম্পৃক্ততাও স্পষ্ট হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, সরকার নজিরবিহীনভাবে একজন বিতর্কিত দলীয় ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেয়। নতুন এ গভর্নর একজন (সাবেক) ঋণ খেলাপি। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে তার ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকার ঋণ খেলাপি ছিল। গত বছরের জুনে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় ১০ বছরের জন্য তার ঋণ পুনঃতপশিল করা হয়েছে।

এ ধরনের একজন অনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীর হাতে দেশের সর্বোচ্চ ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিরাপদ থাকবে–তা বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট, সরকার ব্যাংকিং সেক্টর ও আর্থিক খাতে ফ্যাসিবাদী আমলের মতো নতুন করে লুটপাটের বন্দোবস্ত করতে ইচ্ছুক।

আহসান এইচ মনসুরের মতো অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদকে সরিয়ে দেয়া আমাদের হতবাক করেছে। তাকে সরিয়ে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর বিদেশে অর্থ পাচারের পথ আবারও সুগম করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

আমরা সরকারের এমন অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন। আমরা এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করতে সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com