• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

এবার সেই আলেয়াকে নিয়ে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:৩২
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:৩২

96333320 1

এবার সেই আলেয়াকে নিয়ে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার ভিংলাবাড়ী এলাকার দিবানিশি হোটেলের মালিক আলেয়া বেগমকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকালে তার ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ছবির এই মানুষটিকে দেবিদ্বারের সবাই ‘খালা’ নামে চেনে, দিবানিশি ভাতের হোটেলের মালিক হলো এই ‘খালা’। খালার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ২০২৫ সালের শুরুতে।

২৪-এর পর যখন দেবিদ্বারে যাওয়া শুরু করি, তখন নানা কাজকর্মে খাওয়া-দাওয়ার কোনো ঠিকঠাক ছিল না। সকালে বের হতাম, গভীর রাতে বাসায় ফিরতাম, খাওয়ার ফুরসতই মিলত না।

একদিন রাতে এক বন্ধু খালার হোটেলের কথা বলল। এত রাতে খোলা থাকবে কি না—এই শঙ্কা নিয়েই গেলাম। গিয়ে দেখি, ‘হোটেল’ নাম হলেও আসলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক দিনের স্মৃতি বয়ে বেড়ানো এক জীর্ণ চৌচালা ঘর।

রাতে খালাকে ডেকে তুললাম। তিনি উঠে আমাদের দেখে পরম যত্নে ভিতরে বসালেন। সেদিন যা বেঁচে ছিল, টমেটো দেওয়া ঘন মসুর ডাল, ডিমভাঁজা, তাই খেলাম কিন্তু তৃপ্তিটা ছিল ভরপুর।

সেদিন থেকেই দেবিদ্বারে আমার একটা স্থায়ী খাবারের জায়গা হয়ে গেল। এরপর থেকে আমি খালার নিয়মিত মেহমান।

প্রায়ই আমরা সঙ্গে করে মাংস কিনে নিয়ে যেতাম। বসে বসে তার রান্না দেখতাম। খালা প্রথমে মাংস ধুয়ে ঝরিয়ে নিতেন, আলু কেটে রাখতেন। কড়াইতে তেল গরম হতেই গরম মসলা, তেজপাতা আর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে নাড়তেন। পেঁয়াজ লালচে হয়ে এলে এমন গন্ধ উঠত যে বাইরে দাঁড়ানো লোকেরও ক্ষুধা বেড়ে যেত।

মাংস কড়াইতে পড়তেই তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত। তিনি ধীরে ধীরে মসলা কষাতেন, খেয়াল রাখতেন যেন না পুড়ে, না কাঁচা থাকে। তার হাতের নাড়ায় একটা তাল ছিল, অভ্যাস আর অভিজ্ঞতার মিশেল।

মসলা কষে এলে আলু দিয়ে আবার নাড়তেন, তারপর পানি দিয়ে ঢেকে দিতেন। ধীরে ধীরে ঝোল ফুটত, উপরে লালচে তেল ভেসে উঠত। তজবি জপার মতো করে দুই আঙ্গুল দিয়ে অতি সন্তর্পণে মাঝে মাঝে ঢাকনা খুলে নুন-মরিচ মিলিয়ে নিতেন।

তার চোখে তখন একাগ্রতা, যেন এই রান্নাটাই তার সবকিছু, রান্নাটাই যেন তার ইবাদত।

রান্না শেষ হলে একটু ঝোল তুলে স্বাদ নিতেন। মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠত, মাংস নরম, আলুতে ঝোল ঢুকে গেছে, স্বাদ একেবারে মিশে গেছে।

মাংসের সঙ্গে আলু ভর্তাও হতো। সেদ্ধ আলু ধীরে ধীরে চটকে, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ কুচি, সরষের তেল, নুন আর ধনিয়া পাতা দিয়ে মাখতেন। সরষের তেলের ঝাঁজে চারপাশ বদলে যেত। তার আঙুলের ছোঁয়ায় ভর্তা মসৃণ হয়ে উঠত, না বেশি তেল, না কোনো দলা, একদম ঠিক মাপ। মনে হতো, এই সাধারণ ভর্তাতেই যেন তার সমস্ত যত্ন আর অভিজ্ঞতা মিশে আছে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com