• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সরকারের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টায় জামায়াত-এনসিপি

প্রকাশ: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:৪৪
আপডেট: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:৪৪

96589326

সরকারের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টায় জামায়াত-এনসিপি

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে বিএনপির সরকারকে চাপে রাখতে বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এরই অংশ হিসেবে গণভোটে জনরায়ের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আজ শনিবার বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে তাদের নেতৃত্বাধীন ‘১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্য’।

জোটের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিলেও তাড়াহুড়ো নয়, ধীরে-সুস্থে এগোতে চায় জামায়াত জোট। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের ইস্যুতে রাজপথ ও সংসদ–দুই জায়গাতেই ভূমিকা রাখতে চান তারা। সে জন্য রাজপথের কর্মসূচির পাশাপাশি সংসদেও জোরালো ভূমিকা রাখার কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছেন তারা। আগামী ৭ এপ্রিল জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক থেকে আসতে পারে নতুন কর্মসূচি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সংবিধান সংস্কারকে সামনে রেখে বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবেই সংসদের বাইরেও রাজপথের কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে জামায়াত ও এনসিপি। পাশাপাশি সংসদ থেকেও ওয়াকআউট করছেন। তারা বিএনপির ওপর একধরনের স্নায়ুচাপ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র একাধিক নেতা বলেন, সংবিধান সংস্কারে দেশের জনগণ জুলাই আদেশ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকারি দল বিএনপি তাদের পুরোনো মতলবে হাঁটছে। ঠিক যেমন তারা জুলাই সনদের সংলাপে অংশ নিয়ে নানা টালবাহানা করেছিল। এখন তারা সংবিধান সংস্কার না করে তাদের পছন্দমতো কিছু বিষয় সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি জনরায়কে উপেক্ষা করা।

সরকারি দল বিএনপি বলছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ অস্তিত্বহীন। এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন জরুরি। এ জন্য সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা হবে। আগামীকাল রবিবারের মধ্যেই গঠন করা হবে এ কমিটি।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘জুলাই সনদের পক্ষে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দল কর্মসূচি পালন করছে। এ বিষয়ে সংসদেও বিরোধী দল সতর্ক রয়েছে। তারা তাদের বক্তব্যে তুলে ধরছে। সংসদের ভেতর ও বাইরে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। এটা নিয়ে বিএনপি তেমন কোনো সমস্যা দেখছে না। তারা কর্মসূচি পালন করবে–এটা স্বাভাবিক বিষয়। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় বিএনপি। সেখানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া আটটি বিষয় সংসদে আলোচনার পর বাস্তবায়ন করতে চায় দলটি। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদের অধ্যাদেশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া বিষয়টি তুলে দিয়ে গণভোটের আয়োজন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এ জন্য বিএনপি এখন সংস্কার পরিষদ মানতে চাইছে না।

অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের জন্য বিএনপির সংসদ সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। শপথের জন্য তারা রাজপথের আন্দোলন ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে। তবে সংসদ থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে যাবে না। সংসদের ভেতর ও বাইরে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য বিএনপির সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বিরোধী দলগুলো। তবে বড় আন্দোলন যাবে কি না, এটা বলার সময় এখনো আসেনি।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমের জনগণ তাদের সার্বভৌমত্ব জানিয়েছে। জনগণের রায়ের সার্বভৌমত্বের ওপর সংসদের সার্বভৌমত্ব চলে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলে দেশে নতুন সংকট তৈরি হবে। গণভোটে জনরায় না মেনে বর্তমান সরকার কার স্বার্থ রক্ষা করতে চায়, কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়, তা আমাদের বোধ্যগম নয়।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে সরকারের ভূমিকা রহস্যজনক। সংসদে সমাধান না পেয়েই আমরা রাজপথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছি।’ নেতারা বলছেন, তারা সংসদে ও রাজপথে সক্রিয় থাকবেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি-দাওয়া নিয়ে কর্মসূচি দেওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। দাবি নিয়ে রাজপথের কর্মসূচি ডেমোক্র্যাটিক কালচারের অংশ, এসব কর্মসূচি গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অপরিহার্য বিষয়। এই বিষয়গুলো রাজনীতিতে থাকে। রাজনৈতিক দলগুলোর এই অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ।

জামায়াত জোটের কর্মসূচির বিরুদ্ধে বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই বলেও জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘জামায়াতের কর্মসূচির বিরুদ্ধে আমরা কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে থাকলে তো সেই আওয়ামী লীগের অনুসরণ করা হলো। বিএনপি এসব করবে না।’

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে ১৩ নভেম্বর আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। ওই আদেশের ওপর ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। আদেশে বলা হয়, সংসদ অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হবেন। সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই অধিবেশন ডাকা হয়নি। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এর মধ্যে গণভোটের অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশও রয়েছে। এ অবস্থায় গণভোট প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া ছাড়াও বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হবে। কেউ কেউ এও বলছেন, অধ্যাদেশ বাতিল হলে পুরো গণভোট অবৈধ হয়ে যাবে। এ ছাড়া গত ৩ মার্চ গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। ফলে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে একধরনের আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছে। এতে সবকিছু মিলে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে–এমনটিই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে দেওয়া তার কমিটমেন্ট থেকে আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বিএনপি তার কমিটমেন্ট রক্ষা করছে না। তাদের কথার সঙ্গে কাজের মিল না হলে আমাদের তো প্রতিবাদ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘রাজপথের কর্মসূচি সরকারের ওপর শুধু চাপ সৃষ্টি করতে নয়, জনমত সৃষ্টির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিরোধী দল হিসেবে জনগণের কাছেও আমাদের একটা দায়বদ্ধতা আছে।’

এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের ইস্যুতে সংসদের ভেতর ও বাইরে আমরা লড়াই করতে চাই। আমাদের ছয়জন সংসদ সদস্য যুক্তিতর্ক তুলে ধরছেন। তবে সরকারি দল সংবিধান সংশোধনের জন্য নানা কমিটি গঠনের কথা বলছে। কিন্তু আমাদের কথা হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘গণভোটে জনগণ ৭০ শতাংশ রায় দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করছে, এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ভালো না। কারণ সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদে কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার করা যায় না। তাই জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের রায়কে সংসদের পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এতে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। আমি মনে করি, নতুন কোনো রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে তা বিএনপির জন্য ভালো কিছু হবে না।’


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com