জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
বিল পাসে অনাস্থার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে বিরোধী দলীয় সদস্যদের নিয়ে আবারও ওয়াকআউট করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৭টা ৪০ মিনিটে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের পর সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলীয় নেতা। এ নিয়ে চলতি সংসদে চতুর্থবারের মতো ওয়াকআউট করল বিরোধী দল।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারেও জাতীয় সংসদের অধিবেশন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দুই অধিবেশনে মোট ২০টি বিল পাস করা হয়েছে। তবে এসব বিলের বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই বিরোধী দল আপত্তি জানিয়েছে বলে জানা গেছে।
‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল’ পাসের সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা বিলের কপি যথাসময়ে হাতে না পাওয়ার অভিযোগ তুলে স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কোনো বিলের বিষয়বস্তু ভালোভাবে না বুঝে সংসদ সদস্য হিসেবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়া গুরুতর দায়িত্বহীনতার শামিল।
তিনি আরও বলেন, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী বিল-সংক্রান্ত নথিপত্র অন্তত তিন দিন আগে সরবরাহ করার কথা ছিল। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় ন্যূনতম এক দিন আগে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, বিল পাসের সময়ই টেবিলে কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে একদিকে সংসদের কার্যক্রম চলেছে, অন্যদিকে সদস্যদের সামনে নতুন করে নথিপত্র রাখা হয়েছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা কঠিন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা অর্থনীতির ছাত্র নই, তাই এত অল্প সময়ের মধ্যে এসব জটিল বিষয় বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা দুর্বল ছাত্র, তাই হাত তুলব না নামাব, সেটাই বুঝতে পারিনি। না বুঝে ‘হ্যাঁ’ বলা যেমন অপরাধ, না বুঝে ‘না’ বলাও অপরাধ। এই অপরাধবোধ থেকেই আমরা চুপ থেকেছি।”
জামায়াত আমির হিসেবে তিনি আরও বলেন, সরকারি দলের সদস্যরা হয়তো সবাই অর্থনীতিতে পারদর্শী এবং অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় কাগজ হাতে পেয়েই সব বুঝে ফেলেছেন। কিন্তু বিরোধী দলের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং এ পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ চান।
বিরোধীদলীয় নেতার এ বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট বিলগুলো সংসদের বিশেষ কমিটিতে পর্যালোচনার সময় বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যাদেশগুলোকে বিল আকারে পাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফলে বিল পাস হওয়ার পর এখন বিষয়টি না বোঝার কথা বলা সমীচীন নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।












