• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

তেলের দামের ধাক্কায় দিশেহারা রাইড শেয়ারিং চালকরা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২:৫৯
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২:৫৯

9601 18

তেলের দামের ধাক্কায় দিশেহারা রাইড শেয়ারিং চালকরা

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি খাতসহ নানা ক্ষেত্রে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল পাম্পগুলোতে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। অনেক পাম্পে বন্ধ রয়েছে তেল বিক্রি, খোলা পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বাইক, গাড়িচালকদের।

এরই মধ্যে এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে না আশ্বাস দেওয়ার পরও সরকার নির্ধারিত জ্বালানি তেলের মূল্য ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে বর্তমানে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ ও পেট্রল ১৩৫ টাকা করা হয়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরও পাল্টায়নি পাম্পের দীর্ঘ লাইন।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এ তেল সংকটের প্রভাব এখন দৃশ্যমান রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে। চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন রাজধানীর মোটরসাইকেল চালকসহ যাত্রীরাও। বিশেষ করে খাবার ডেলিভারি ও রাইড শেয়ারিং পেশায় জড়িতরা পড়েছেন বেশি বিপাকে। তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন আয় কমে গেছে প্রায় অর্ধেকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন খাতের এই অস্থিরতা আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়বে।

তীব্র গরমে পেট্রল পাম্পে যারা জ্বালানি তেল নিতে আসেন তাদের অনেকেরই হাঁসফাঁস অবস্থা। একেকজনের তেল নিতে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত লাগছে, আবার অনেকে রাতেও লাইনে থাকেন যেন সকালে পাম্প খুলতেই তেল নেওয়া যায়। তার পরও কর্মদিবসের প্রায় পুরো সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে জ্বালানি নিতে। এ কারণে অনেকের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করেছেন গাড়ির মালিকরা।

আবার তেল নিতে বাড়তি সময় খরচ হওয়ায় ঘুম ও বিশ্রামের সময় কমে গেছে অনেকের। তীব্র এ গরমে আর যারা রাইড শেয়ার করেন, তাদের সংকট আরও বেশি। আর্থিক ক্ষতি পোষাতে বাড়তি সময় রাইড শেয়ার করতে হচ্ছে। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানালেন কয়েকজন চালক।

তবে পাম্প মালিকরা বলছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়ে কিছু চালক সেই তেল বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। পাম্প ম্যানেজাররা বলেন, যে বাইক কাস্টমার আগে দিনে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল নিত, এখন তাকে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার তেল দিতে হচ্ছে। তারা এই তেল বোতলজাত করে বিক্রি করছে। এ ছাড়া আগে প্রাইভেটকারে যেখানে ১৪-১৫ লিটার লাগত, এখন সেটা বাড়িয়ে ৩০ লিটার নিচ্ছে। একবার তেল নেওয়ার পর আবারও অনেকে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন তেল নেওয়ার জন্য।

পাম্প মালিক আর রাইড শেয়ার চালকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া মেটাতে দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, উবার-পাঠাওসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চালকরা অনেকেই ডাবল পরিমাণ তেল নিচ্ছেন এবং সেই তেল বাইরে বিক্রি করছেন। এর প্রভাব পড়ছে ভাড়াতেও। আগে যে ভাড়া ২০০ টাকা ছিল, এখন তা ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

এই সংকট ঘিরে তৈরি হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। চালকদের দাবি, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় তারা বাধ্য হচ্ছেন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে। অন্যদিকে পাম্প মালিকদের অভিযোগ, কিছু চালক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নিয়ে তা বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন, যা সংকটকে আরও তীব্র করছে।

পাম্প সংশ্লিষ্টদের মতে, আগে যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল নেওয়া হতো, এখন অনেকেই অতিরিক্ত তেল নিচ্ছেন এবং একাধিকবার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপরও। ভাড়া বেড়ে গেছে আগের তুলনায়। অনেক ক্ষেত্রে স্বল্প দূরত্বের ভাড়াও বাড়তি গুনতে হচ্ছে, যা নগরবাসীর দৈনন্দিন ব্যয়ে নতুন চাপ তৈরি করছে।

মূলত কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের তিনটি দেশের যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি খাত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে জ্বালানি সংকটের প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্রিপের সংখ্যা, আয় দুটিই কমেছে
রাজধানীর ধানমন্ডি, শাহবাগ, মোহাম্মদপুর এলাকায় কথা হয় একাধিক রাইড শেয়ারিং চালকের সঙ্গে। তারা জানান, গত এক মাসে তাদের আয় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। আগে সকালের ব্যস্ত সময় যাত্রী নিয়ে কাটলেও এখন সেই সময়ের বড় অংশ চলে যাচ্ছে পেট্রল পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে।

দাম বাড়ায় জ্বালানিতে খরচ বেড়েছে চালকদের
গত শনিবার রাতে জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা করা হয়েছে। অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৪০ টাকা। আগে দাম ছিল ১২০ টাকা। পেট্রলের দাম লিটারে বেড়েছে ১৯ টাকা। আগে ১১৬ টাকায় বিক্রি হলেও এখন করা হচ্ছে ১৩৫ টাকা। কেরোসিনের দাম লিটারে ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু পরিবহন ব্যয় বাড়ায়নি; বরং রাইড শেয়ারিংয়ের মতো স্বনির্ভর পেশার হাজারো মানুষের জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শহরের বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com