• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

রাজনীতি

শহীদ নাইমার ঘরে দাঁড়িয়ে ডা. মাহমুদা মিতু— শপথের দায় মনে হচ্ছে আরও ভারী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ ১:১৫
আপডেট: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ ১:১৫

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত

জুলাইয়ের সেই বেদনাময় স্মৃতি আজও তাজা। একটি সাধারণ পরিবারের স্বপ্ন, হাসি আর স্বাভাবিক জীবনের ভেতর হঠাৎ নেমে আসা অমানবিকতার গল্প এটি। শহীদ নাইমার বাড়িতে গিয়ে যে অনুভূতি, যে দায়বদ্ধতা আর যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে—সেগুলো শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো জাতির বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো। তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তুলে ধরেছেন তার অনুভূতি। যা হুবহু তুলে ধরা হলো—

ভেবে রেখেছিলাম, শপথ নেওয়ার পর প্রথমেই জুলাইয়ের শহীদ নাইমার বাসায় যাবো। যাওয়ার পর আপা এতো খুশি হয়েছিলেন ,এত খুশি হবেন আমি ভাবিই নি। নাইমা আমার মেয়ের কাছাকাছি বয়সী। আর তার মা প্রায় আমারই সমবয়সী।

নাইমার বাসায় যাওয়ার পর শপথের ভারটা যেন নতুন করে আরও ভারী হয়ে উঠলো আমার কাছে।

মেয়েটা পিজ্জা বানাবে বলে চিকেন নামিয়ে বারান্দায় গিয়েছিল ,সেখানেই সে খুন হয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রের হাতে ৭২ এর সংবিধানের হাতে

যে সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বময় ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করেছে, সেই কাঠামো ব্যবহার করে পুলিশ, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে নিরস্ত্র শিশুদের বুক-মাথায় গুলি চালানো হয়েছে।

ফ্যাসিবাদ তৈরির যে যন্ত্র, সেই কাঠামো ৭২ এর সংবিধান এখনো অটুট রয়েছে।দেশ সংস্কারের নামে আমরা এখনো সেই সংবিধানের গোলকধাঁধার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছি।

আমি শহীদ নাইমার মাকে জিজ্ঞেস করলাম

“আপনার কি কোনো চাওয়া আছে? আমি তো সংসদে যাচ্ছি…”

খুব স্পষ্টভাবে তিনি দুটি কথা বললেন

জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার চান,

এবং দেশের প্রকৃত সংস্কার চান ,হাদি হত্যার বিচার চান।

কারণ তার আরও দুইটি সন্তান আছে।

সংস্কার না হলে, যদি আমরা আবার সেই আগের বাংলাদেশে ফিরে যাই তাহলে তার বাকি সন্তানদের কী হবে?

সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে আমরা ফিরে যাবো সেই একই রাজনীতি, একই সিস্টেম, একই সিন্ডিকেটের কাছে।

আপা কাঁদছিলেন কিন্তু শুধু আবেগ দিয়ে, মায়ের মমতা দিয়ে রাষ্ট্র চলে না আমাদের রাষ্ট্র চলে ৭২ এর সংবিধান দিয়ে। যে সংবিধান বারান্দায় কাপড় শুকাতে দেয়া আমার সন্তানকে খুন করে।

আমাদের ৩৫০ জন এম পি মন্ত্রীদের মাসে একবার এসব মায়দের কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকা উচিত। তখন হয়তো মনে পড়বে ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে সেই সবুজ চেয়ারে তারা বসেছে ,কেন বসেছে? তাদের প্রধান দায়িত্ব কি?

অনেক দিন পর জুলাইয়ের সে ভয়াবহ স্মৃতি ভেসে উঠলো। গুলিবিদ্ধ নাইমাকে বারান্দা থেকে ধরে নেয়ার চেষ্টা করছে কিছু ছাত্ররা। কি তীব্র অমানবিক দৃশ্য।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম