• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বৃষ্টি

প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬ ৯:৫৫
আপডেট: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬ ৯:৫৫

96333302 1

দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বৃষ্টি

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি :সংগৃহীত
মাদারীপুরের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে, লক্ষ্য ছিল পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন। কিন্তু সেই স্বপ্নের যাত্রা শেষ হয়েছে নির্মম পরিণতিতে। যুক্তরাষ্ট্রে তার মার্কিন নাগরিক রুমমেটের হাতে পরিকল্পিতভাবে হত্যার শিকার হন বৃষ্টি এবং তার সঙ্গে থাকা জামালপুরের আরেক তরুণ লিমন।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার (৯ মে) দুপুরে বৃষ্টির মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের চরগোবিন্দপুরে পৌঁছায়। মরদেহ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ঢল।

পরে বাদ আছর চরগোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা ও দাদির কবরের পাশে বৃষ্টিকে দাফন করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও কঠোর বিচার দাবি করেন পরিবারের সদস্য, স্বজন এবং এলাকাবাসী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম আকন (দিলু) ও আইভি বেগম দম্পতির মেয়ে। দুই ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। তার বাবা একটি বীমা কোম্পানিতে চাকরির কারণে পরিবার নিয়ে ঢাকার মিরপুর এলাকায় বসবাস করতেন। ঈদসহ বিভিন্ন সময়ে তারা গ্রামে আসতেন। মূলত ঢাকাতেই বৃষ্টির পড়াশোনা চলছিল।

তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। পরবর্তীতে ফুল স্কলারশিপ পেয়ে প্রায় ৯ মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করতে যান। সেখানে তিনি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।

পরিবার জানায়, মৃত্যুর কিছুদিন আগেই বৃষ্টি ফোন করে জানিয়েছিলেন তিনি আগামী ১৭ মে দেশে ফিরবেন। দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন, গ্রামের বাড়িতে সময় কাটাবেন এবং নতুন ভবন উদ্বোধনের পরিকল্পনাও ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। দেশে তিনি ফিরলেন ঠিকই, তবে জীবিত নয়, মরদেহ হয়ে।

তার এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। শনিবার সকাল থেকেই বৃষ্টির একনজর দেখার জন্য চরগোবিন্দপুর গ্রামে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। দুপুরে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় কান্নার রোল পড়ে যায়। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।

বৃষ্টির বাবা জহিরুল ইসলাম আকন দিলু বলেন, এখন আর কিছু চাওয়ার নেই। আমার মেয়েকে ঘিরে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। শুধু চাই, হত্যাকারীর কঠোর বিচার হোক।

তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ের স্বপ্ন ছিল পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরে দেশের জন্য কিছু করা। নতুন ভবন উদ্বোধন করবে, সবাইকে নিয়ে আনন্দ করবে। কিন্তু সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

একইভাবে শোকাহত মা আইভি বেগমও কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার মেয়েকে যারা এভাবে হত্যা করেছে, তাদের কঠোর বিচার চাই।

এদিকে এ ঘটনায় বিচার নিশ্চিতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা সাবাব।

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টি ও তার বন্ধু লিমন নিখোঁজ হন। পরে এক সপ্তাহ পর ফ্লোরিডার টাম্পায় হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছ থেকে লিমনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এর দুদিন পর একই এলাকার ম্যানগ্রোভ বন থেকে বৃষ্টির দেহাবশেষ উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে বৃষ্টির রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com