এম এনাম হোসেন, চট্টগ্রাম
ছবিঃ প্রতিনিধি
শত নির্যাতন সহ্য করেও দূরে থেকেই রাউজান পৌরসভার মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাবের সুলতান কাজল। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী একজন পরিচিত নেতা হিসেবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে সুপরিচিত।
রাজনৈতিক মামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবের সুলতান কাজলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়। কয়েক দফা গ্রেফতার ও হামলার শিকার হন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ে তার রাউজানস্থ পৈতৃক বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং পরিবারের সদস্যরা হয়রানির শিকার হন।
স্থানীয় যুবদল নেতারা জানান, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দূরে থেকেই তিনি রাউজানের অসহায় মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা ও আইনি সহায়তায় ভূমিকা রাখেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে তিনি অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাউজানে প্রকাশ্যে আসেন কাজল। এরপর থেকে তিনি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ধারাবাহিক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। মসজিদ, মন্দির, স্কুল ও বাজারকেন্দ্রিক উঠান বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিপদের সময় উনাকে ফোন দিলে দূর থেকে হলেও সাহায্য করতেন। এখন সামনে থেকে কাজ করছেন দেখে ভরসা পাচ্ছি।”
বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাউজান পৌরসভায় ড্রেনেজ সংস্কার, সড়ক উন্নয়ন, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমসহ বেশ কিছু জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে পৌর প্রশাসনকে স্বেচ্ছাশ্রম, জনসম্পৃক্ততা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন সাবের সুলতান কাজল।
এ বিষয়ে কাজল বলেন, “রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থই আমার কাছে মুখ্য। সরকারের যে কোনো উন্নয়নমূলক কাজে আমি রাউজানবাসীর পক্ষে প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে থাকব।”
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “চলমান উন্নয়ন কাজে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। সাবের সুলতান কাজল বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনসচেতনতা ও স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়ে ভূমিকা রাখছেন।”
আসন্ন রাউজান পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত ড্রেনেজ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, এলইডি সড়ক বাতি ও ডিজিটাল নাগরিক সেবা চালু করে রাউজানকে ‘মডেল পৌরসভা’য় রূপান্তরের অঙ্গীকার করেন।
তিনি আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। একইসঙ্গে মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও বখাটেপনার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
রাউজান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক সদস্য বলেন, “সাবের সুলতান কাজল ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।”
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন এখনো রাউজান পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ভোটগ্রহণ হতে পারে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।












