জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
মালয়েশিয়া প্রতিবছর চায়নাতে বিলিয়ন ডলারের ডুরিয়ান এক্সপোর্ট করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “তারা যদি পারে নিশ্চয়ই আমরা কাঁঠালও এক্সপোর্ট করতে পারবো এবং এর মাধ্যমে আমরা নিশ্চয়ই বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবো।”
বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন।
ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, আমি আমার নির্বাচনি এলাকা ময়মনসিংহ-৬ আসনের ফুলবাড়িয়ায় প্রচুর পরিমাণে লেবু, আনারস এবং কাঁঠাল উৎপাদন হয় এবং বিপুল একটা বাজার সেখানে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমার জিজ্ঞাসা হচ্ছে, এটা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, যদি সেখানে একটি কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা যায়। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাচ্ছি যে ফুলবাড়িয়ায় এরকম একটি শিল্পাঞ্চল কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে কিনা?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বেশ কয়েক বছর আগে আপনার ওখানে (ফুলবাড়িয়া) আনারসের ইন্ডাস্ট্রি করা হয়েছিল, জানেন বোধহয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করছি, বিভিন্ন কারখানা যেগুলো বন্ধ আছে সেগুলো চালু করার জন্য। কৃষি খাতের মিল ফ্যাক্টরিগুলো আমরা চেষ্টা করছি আবার চালু করার জন্য। এটি গেলো একটি। দ্বিতীয়টি হচ্ছে—আলাদাভাবে আপনার ওখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন করার পরিকল্পনা নেই আমাদের। কিন্তু যেটা বন্ধ হয়ে গেছে সেটাকে কীভাবে চালানো যায়—সেই চেষ্টা আমরা করছি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন—এই কিছু দিন আগে চীন সফরে গিয়েছিলাম। সেই চীন সফরে আমরা তাদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আমাদের দেশের কাঁঠাল অত্যন্ত পপুলার—চীনের মানুষরা খুব পছন্দ করেন। এই দেশ থেকে চীনে আমরা কাঁঠাল রফতানি করবো ইনশাআল্লাহ। প্রসঙ্গক্রমে আমি বলি, চীনের আগে মালয়েশিয়াতে গিয়েছিলাম, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম কথা প্রসঙ্গে আমাকে জানিয়েছেন, তাদের ওখানে একটি ফল হয় ডুরিয়ান। দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মতো। কথা প্রসঙ্গে উনি আমাকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া প্রতি বছর চায়নাতে বিলিয়ন ডলারের ডুরিয়ান এক্সপোর্ট করে। তারা যদি পারে নিশ্চয়ই আমরা কাঁঠালও এক্সপোর্ট করতে পারবো। এর মাধ্যমে আমরা নিশ্চয়ই বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবো।”
বগুড়ায় ইউএভি ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যক্রম শুরু
প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বৃহত্তর বগুড়ায় একটি ইউএভি ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত দুটি আলাদা প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।
নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে তিন বছর ও পরবর্তী সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।”
পাশাপাশি ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পনীতি, ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (ডিআইজেড) এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের (টিওটি) মাধ্যমে সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিমান বাহিনী সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’-এর আওতায় বিমান বাহিনীতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, ইউএভি সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, প্যাসিভ ডিটেকশন সিস্টেম, মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম এবং লং রেঞ্জ রাডার ও এয়ার ট্রাফিক সার্ভেইলেন্স রাডার সংযোজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
লিখিত উত্তরে আরও বলা হয়, সেনাবাহিনীতে আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি), কাউন্টার ইউএভি এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ ও পরিস্থিতি অনুধাবনের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিমানযোগে অভিযান পরিচালনা, আকাশপথে সৈন্য ও সরঞ্জাম স্থানান্তর এবং নদীপথে পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বাহিনীর কৌশলগত ও অপারেশনাল গতিশীলতা আরও সুসংহত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে আর্টিলারি গোলাবারুদ, এমএলআরএস রকেট, ট্যাংকের গোলাবারুদ, অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রয়োজনীয় মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।












