জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
সারা দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে ভাংচুর-লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের হত্যার ঘটনা অব্যাহত থাকায় ‘ধর্মীয় সম্প্রীতির অবক্ষয় ঘটেছে’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।
২০২৫ সালের ১২ মাস এবং ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার চালচিত্র তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, এসব ঘটনায় সংখ্যালঘুদের অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর ও বাস্তুচ্যুতি বৃদ্ধি পেয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার নানা তথ্য উপস্থাপন করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।
এ সময় সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের অন্যতম সভাপতি মি. নির্মল রোজারিও; সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, মিলন কান্তি দত্ত, রঞ্জন কর্মকার, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়সহ অন্যরা।
মনীন্দ্র কুমার নাথ জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত সারা দেশে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে- ৪০টি ঘটনায় হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৪ জন সংখ্যালঘু নাগরিক।
২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত সহিংসতার চিত্র উপস্থাপন করে বলা হয়, এ সময়ে সংঘটিত ২ হাজার ৯৬৩টি ঘটনার ৭৩ দশমিক ৭ শতাংশ সংঘটিত হয়েছে ৫ আগস্ট পরবর্তী ৫ মাসে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এ সময়কালটি ছিল ব্যাপক আকারের গণসহিংসতার পর্যায়। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় স্থাপনা।
মনীন্দ্র নাথ দাবি করেন, সংখ্যালঘু নাগরিকদের হত্যা, উপাসনালয়ে হামলা হার ২০২৫ সালের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘ এ বছর প্রথম ৬ মাসের তথ্যে দেখা যায় যে, সহিংসতার সামগ্রিক সংখ্যা স্থিতিশীল থাকলেও প্রাণহানি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার হার উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে এ সময়। এসব ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার জন্যে দীর্ঘমেয়াদী হুমকি।’
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ২৩ মাসে ২ হাজার ৫৫টি ঘটনায় বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু পরিবার জীবিকা হারিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সংকটে পড়েছে।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর রাধাগোবিন্দ কালী মন্দির চত্বরে ৮১ ফুট উচ্চতায় রামমূর্তি নির্মাণের ইস্যুটি আসে সংবাদ সম্মেলনে। এই রামমূর্তি নির্মাণের ইস্যুকে কেন্দ্র করে যারা সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়িয়েছে তাদের শাস্তির আওতায় না আনায় নিন্দা জানান ঐক্য পরিষদের নেতারা। পাশাপাশি সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র প্রভু চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন ঐক্য পরিষদের নেতারা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-
ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, বিবৃতি, মিথ্যা গুজব প্রচার ‘প্রিজুডিসিয়াল অ্যাক্ট’ হিসেবে অপরাধ গণ্য করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ; ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ‘অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী’ বিবেচনা করে তাদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।












