কুমিল্লা (দাউদকান্দি) প্রতিনিধি
ছবি : সংগৃহীত
হাসিনা সরকার পতন আন্দোলনের অন্যতম রূপকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে সরকার জুলাই আন্দোলনের ফসল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন। একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে। বিএনপি ও ছাত্রজনতার গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় জনগণ হাফ ছেড়ে বেঁচেছে। এতে দেশ গড়ার অবারিত সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন।
তিনি বলেন, জনগণের প্রধান দাবি ছিল- হাসিনার দ্রুত পদত্যাগ। কিন্তু মহান আল্লাহ তাকে পদত্যাগ নয়, দেশত্যাগে বাধ্য করেছেন। হাসিনা পালিয়ে থেকেও দেশকে অস্থিতিশীল করতে গভীর ষড়যন্ত্র করছে। শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করতে তিনি (মারুফ) সরকারের কাছে দাবি করেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) দাউদকান্দি উপজেলা সদরে আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র্যালি এবং জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। এর আগে প্রধান অতিথি ড.খন্দকার মারুফ হোসেন দাউদকান্দিতে বিশাল বর্ণাঢ্য র্যালিতে নেতৃত্ব দেন।
বিএনপি নেতা খন্দকার মারুফ আরও বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই যোদ্ধাদের মূল্যায়ন করেনি। প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি করছি। সরকার জুলাই আন্দোলনের জনআকাঙ্খা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সরকারকে সহযোগিতা দিতে সংসদের ভেতর ও বাইরে সবাইকে আলোচনা করতে হবে। তা না করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে বিরোধী নেতৃবৃন্দ মুখরোচক বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে নিয়ে কাজ করে রাষ্ট্রকে বিশ্বে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বিএনপি নেতা ড.খন্দকার মারুফ বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬/১৭ বছরের জঞ্জাল সরিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি ১৮ বছর পরে দেশে ফিরে রাষ্ট্র কাঠামো গঠন করার কথা বলেছেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড বিতরণ করছেন। ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও পাদ্রিদের ভাতা দিচ্ছেন। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ঐতিহাসিক ‘খাল-নদী খনন কর্মসূচি’ চালু এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছেন।
বিএনপি নেতা ড.খন্দকার মারুফ দাউদকান্দিতে সংঘটিত হত্যা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিএনপি যখনই সরকারে থাকে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের জানমাল নিরাপদ থাকে। দেশ ও জাতির স্বার্থরক্ষায় লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রাজনৈতিক নেতাদের মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণকর্মী হয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য ড.খন্দকার মারুফ উদাত্ত আহ্বান জানান।
দাউদকান্দির ইউএনও নাছরিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আহমেদ, মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেম, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম. এ লতিফ ভুঁইয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, বিএনপি নেতা আলহাজ জসিম উদ্দিন আহমেদ, পিটার চৌধুরী, কাউসার আলম সরকার, কামাল হোসেন, আরিফ মাহামুদ, যুবদল নেতা শরীফ চৌধুরী ও রোমান খন্দকার এবং শহিদ জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণ।












