• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সিলেটে গৃহকর্মীর প্রেমের বলি সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতি

প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১১:২৯
আপডেট: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১১:২৯

96000025

সিলেটে গৃহকর্মীর প্রেমের বলি সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতি

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত

সিলেট মহানগরীর রায়নগর এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসার গৃহপরিচারিকা তাহমিনার প্রেমের বলি হলেন মো. আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর এলাকায় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত বাবুল মিয়া রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত নূর মিয়া (কবিরাজ)। তিনি পেশায় রংমিস্ত্রি। মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করেন বলেও জানা যায়।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।

তিনি বলেন, বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টা ২৫ থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন রায়নগর রাজবাড়ি আবাসিক এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় ভয়াবহ ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে দ্রুত একটি বিশেষ টিম গঠন করে। পরে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বাবুল মিয়াকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে বাবুল মিয়াকে রায়নগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানান তিনি।

পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাবুল মিয়া বিভিন্ন সময় রাজমিস্ত্রি ও রংমিস্ত্রির কাজ করতো এবং ওই বাড়িতেও আগে কাজ করেছে বলেও জানান তিনি।City & Local Guides

তিনি আরও জানান, বুধবার (১২ আগস্ট) বাবুল মিয়া একটি ছুরি নিয়ে ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে গৃহকর্মী তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে তাহমিনার সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল মিয়া ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করে। এ সময় সুরাইয়া এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে তিনজনকে হত্যার পর বাবুল মিয়া বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সে রায়নগর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে আসে। পুলিশের গঠিত বিশেষ টিমের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটির অবস্থান সম্পর্কে বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গল এলাকায় ছুরিটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আগামীতে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এদিকে বাবুল মিয়ার বাড়ি চাঁদপুর বলে সে জানিয়েছে। তবে তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ঠিকানা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।

প্রসঙ্গত, বুধবার (১২ আগস্ট) হঠাৎকরে সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মহানগীর রায়নগর এলাকায় মো. আব্দুস সাত্তার বাসা থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। বাসায় অসুস্থ কেউ চিৎকার করছেন ভেবে কেউ আর এগিয়ে যাননি। সকাল ১০টার দিকে বাসার রঙের কাজের জন্য একজন মিস্ত্রি এসে ডাকাডাকি করেও সাড়াশব্দ পায়নি। এসময় পাশের বিল্ডিংয়ের দু’তলার এক ভাড়াটে দেখতে পান আব্দুস সাত্তারের বাসার দরজার নিচ দিয়ে বারান্দায় রক্ত গড়িয়ে বেরুচ্ছে। এসময় তারা দ্রুত চিৎকার-চেচামেচি করলে আশপাশের আরও লোকজন জড়ো হন। পরবর্তীতে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে আনুমানিক পৌনে ৫টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে প্রেরণ করা হয়ে।

নিহতরা হলেন- মৃত আবরু মিয়ার ছেলে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।

এসময় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসার একটি রুমে আব্দুস সাত্তারের ও অপর একটি রুমে সুরাইয়া ও তাহমিনার রক্তাক্ত মরদেহ পড়েছিল। বাসার দক্ষিণ দিকের একটি দরজা দিয়ে ঘাতকরা পালিয়ে গেছে বলে প্রমাণ মিলেছে। দোতলা থেকে নিচে নামার সময় রক্তের দাগও লেগেছিল সেখানে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com