শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
দেশের ই-কমার্স খাত ধারণার চেয়েও দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহক প্রতারণা ও অনিয়মও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এ অবস্থায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতি বন্ধ এবং সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিমূলক আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে তিন ধাপে নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধি অনুসারে জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে উত্থাপিত এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
মন্ত্রী জানান, বিগত সময়ে বিভিন্ন আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারি ও গ্রাহক প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং ও আলেশা মার্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়ে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ দাখিল হয়েছে। এসব অভিযোগে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও বিক্রেতাদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাওনা অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ডিবিআইডি চালুর ফলে বৈধ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় আইনি তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে, যা ভুয়া প্রতিষ্ঠান প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জমা পড়া অভিযোগগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে আইনি ও প্রশাসনিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।












