কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের স্কুলগামী কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, অধিকার ও প্রয়োজনীয় আইনি সেবা সম্পর্কে সচেতন করতে তিন দিনব্যাপী বিশেষ প্রচারণা শুরু হয়েছে। ইউনিসেফের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত ‘স্বপ্ন সারথি – সি-শোর গার্লস প্রজেক্ট’-এর আওতায় রোববার (৩১ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট। কর্মসূচিটি চলবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
আবুল কাশেম হাই স্কুল থেকে শুরু হওয়া এ প্রচারণা পর্যায়ক্রমে কুরুলিয়া হাই স্কুল ও খুরুশকুল হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার এসব সেশনে তিনটি স্কুলের মোট ৭৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে উপকূলীয় এলাকার অনেক কিশোর-কিশোরী সময়মতো বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারে না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আইনি সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে তাদের মধ্যে। এ ঘাটতি পূরণে প্রচারণার সেশনগুলোতে শিশু সুরক্ষা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, সেফগার্ডিং এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার যুববান্ধব সেবা পাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ‘সার্ভিস ডিরেক্টরি’।
উদ্যোগটির গুরুত্ব তুলে ধরে ‘স্বপ্ন সারথি: সি-শোর গার্লস প্রজেক্ট’-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সেবা ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে আমরা যে তথ্য ও সুপারিশ পেয়েছি, তার প্রকৃত মূল্য তখনই তৈরি হবে যখন কিশোর-কিশোরীরা সেগুলো বাস্তবে ব্যবহার করতে পারবে।’
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ হেল্পলাইন ১০৯ এবং শিশু সুরক্ষা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর ব্যবহার ও রেফারেল প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে শিশু সুরক্ষা বিষয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কুইজ এবং উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বেরও আয়োজন করা হয়েছে।
আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শুধু কোথায় কী সেবা পাওয়া যায় তা জানলেই হবে না, প্রয়োজনে কীভাবে সেই সেবায় পৌঁছাতে হবে এবং নিজের অধিকার কী, সেটিও জানা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সচেতন করার পাশাপাশি তাদের আরও নিরাপদ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
আয়োজকদের মতে, এ সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকার ও বিভিন্ন সেবা পাওয়ার বিষয়ে আরও সচেতন হবে। একই সঙ্গে যেকোনো সমস্যায় ভয় না পেয়ে সঠিক জায়গায় সাহায্য চাওয়ার আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোর কার্যকর যোগাযোগও গড়ে উঠবে।
অভিজ্ঞতা জানিয়ে আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আসফিকা ইসলাম বলে, ‘আমরা অনেক সময় কোনো সমস্যায় পড়লে কোথায় সাহায্য চাইতে হবে তা জানি না। আজকের সেশন থেকে আমি হেল্পলাইন নম্বর, বিভিন্ন সেবা কোথায় পাওয়া যায় এবং নিজের ও অন্যের অধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি। এখন মনে হচ্ছে, প্রয়োজনে আমি নিজেও সঠিক জায়গায় সাহায্য চাইতে পারব এবং অন্যদেরও পথ দেখাতে পারব।’
‘স্বপ্ন সারথি – সি-শোর গার্লস প্রজেক্ট’ মূলত শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও নিরাপত্তা সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে উপকূলীয় কিশোরীদের ক্ষমতায়নে কাজ করছে। প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা ‘সার্ভিস ডিরেক্টরি’ শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রয়োজনীয় সেবা সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা পেতে সহায়তা করছে।
আ/আ












