শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
দেশে বেহাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্ষমতাসীন সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। জোটের নেতারা বলেছেন, গত ছয় মাসের শাসনকালে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারে সরকারের ‘সদিচ্ছার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে’।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ সারাদেশে সব ধরনের হত্যা ও ধর্ষণের দ্রুত বিচার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্কাফী রতন বলেন, দেশজুড়ে বিচারহীনতা, হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসসহ নানা সামাজিক অপরাধে সাধারণ মানুষের জীবন চরম অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার অভাব ও অপরাধীদের বিচারে ব্যর্থতায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
রংপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের সদস্যদের ওপর সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে গড়িমসি করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বদলে মনগড়া তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। এ তদন্তে শক্তিশালী পক্ষের প্রভাব, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও বাহ্যিক শক্তির প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বেহাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উক্ত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের একটি প্রতিনিধি দল রংপুর সফরে যাবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
সমাবেশে উপস্থিত অন্য বক্তারা বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হলেও বর্তমানে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চায়নের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তারা।
সমাবেশে বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূইয়া, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য সীমা দত্ত, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী এবং সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী লিটন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাব ও তার আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করে।










