শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক এমপি বলেছেন, ১৬ বছরের জমে থাকা জঞ্জাল মুক্ত করতেই বিএনপি এখন হিমশিম খাচ্ছে। এই অবস্থায় সবাইকে শপথ নিতে হবে যেন কেউ হতাশ না হন। যারা ভেতরে এক কথা আর বাইরে আরেক কথা বলেন, তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। কারণ ভেতরে ভেতরে আবার ষড়যন্ত্র চলছে, যা অর্জিত গণতন্ত্রকে আবারও গলা চিপে ধরার শক্তি জোগাতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাব জহুর হোসেন হলে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল (পিএনপি)-র ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় জয়নুল আবদিন ফারুক দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস খুব একটা বড় না। অত্যন্ত কাদা-মাটি ও ত্যাগের ভেতর দিয়ে যুদ্ধ করে যারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, দেশটাকে পরবর্তীতে তছনছ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই সময় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এসে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন; সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, মাত্র সাত মাস হলো বিএনপি ও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অতীতের ঋণ পরিশোধ করতে করতে দেশের অবস্থাকে আবার তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, তারেক রহমান এই সাত মাস কয়েক দিনে দেশ পরিচালনায় যে গতি এনেছেন এবং যে আন্দোলন-সংগ্রাম আপনারা করেছেন, তাতে আপনারা অবশ্যই তাঁর নজরে আছেন এবং সময়মতো সবাই মূল্যায়িত হবেন।
ফারুক বিএনপি নেতাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৬ বছর ধরে যিনি দেশের বাহিরে ছিলেন, সেই তারেক রহমান এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ সম্মিলিতভাবে সব ষড়যন্ত্র, মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার, অত্যাচার, বাড়ি ভাঙচুর ও মাথার রক্তস্রোত বয়ে যাওয়া সহ্য করেও আজ সবার পাশে রয়েছেন। কোনো অভিমান না করে তাঁরা শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধরে আছেন। জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গঠিত প্রক্রিয়ায় এবং এক মাথা এক ভোটের হিসেবেও তারেক রহমানই দেশের প্রধান নেতা। তাই সবাইকে আরও কিছুটা সময় ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
পার্লামেন্ট ও বিরোধীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সেদিন পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “এই প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারটা আগুন। সেই আগুনের চেয়ারে বসে বাংলাদেশ পরিচালনা করা বড় কঠিন।” যারা আজকে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেন “সাহস রাখুন তারেক রহমান, চালিয়ে যান”, আবার বাইরে গিয়ে লং মার্চ করে সমালোচনা করেন—আমরা তাঁদের সমালোচনাকে অবশ্যই স্বাগত জানাই। কিন্তু সরকার উৎখাত করার জন্য এক দফায় চলে আসার মতো এমন কী কাজ বিএনপি করেছে?
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ক্ষমতা বড় নয়; বড় হলো এত কষ্টের পর অর্জিত যে গণতন্ত্র, তা ধরে রাখা। তারেক রহমান দিন-রাত সময় না পেয়ে সারা বাংলাদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন একটি কারণেই—তিনি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘুরে দাঁড় করাতে চান, বাংলাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে চান, খাল কাটতে চান, জনগণের কাছে যেতে চান এবং কৃষকের ঋণ মাফসহ তাঁদের সাহায্য করে উৎপাদন বাড়াতে চান।
ফারুক আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে সাহস নিয়ে তারেক রহমান আজ মাঠে নেমেছেন, আসুন আমরা সবাই মিলে তাঁকে সহযোগিতা করি এবং যে গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, সেই গণতন্ত্রকে রক্ষা করি।
প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল (পিএনপি)-র চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের নেতা ফিরোজ মোহাম্মদ লিটনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি।এসময় আরও বক্তব্য রাখেন পিএনপির মহাসচিব আহমেদুর রহমান, ইসলামী ঐক্য ফোরামের মহাসচিব আবদুল করিমসহ পিএনপি ও ১২ দলীয় জোটের নেতারা।













