শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা বা ফরেন এইড কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল রেমিট্যান্সকে দেশের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় কৌশলগতভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য (এমপি) রূপা হক।
আজ শনিবার অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশি প্রবাসীদের অর্থনৈতিক অবদান, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং পরিচয়গত পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
রূপা হক বলেন, অফিশিয়াল হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮৭ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তবে আনঅফিশিয়াল হিসাবে এ সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় অংশ সৌদি আরবে, যেখানে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী থাকলেও ফ্রান্সের প্যারিস ও স্পেনের মাদ্রিদের মতো শহরেও বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে কাতারসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে কঠিন ও প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করে অভিবাসী শ্রমিকরা যে অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন, তা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। শুধু যুক্তরাজ্য থেকেই বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ড রেমিট্যান্স বাংলাদেশে পাঠানো হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে রূপা হক বলেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো আন্তর্জাতিক সাহায্য কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যুক্তরাজ্যে একসময় জিডিপির দশমিক ৭ শতাংশ আন্তর্জাতিক সাহায্যে দেওয়ার নীতি থাকলেও তা কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ বা তারও নিচে নামানো হয়েছে। এতে খাদ্য কর্মসূচি, রোগ প্রতিরোধ এবং নারী শিক্ষার মতো বিভিন্ন বৈশ্বিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দানশীল ব্যক্তি ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্সকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক সাহায্যের ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন অর্থায়ন মডেল তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
প্রবাসীদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়েও কথা বলেন রূপা হক। তিনি জানান, সম্প্রতি ভোটাধিকার পেয়ে প্রায় পাঁচ লাখ অনিবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) ভোট দিয়েছেন।
এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ ব্যবস্থার প্রশংসা করেন তিনি, যেখানে অভিবাসীদের ভোটাধিকারের সুযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন রূপা হক। তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তনের দাবিতে প্রবাসীরা বিভিন্নভাবে ভূমিকা রেখেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার, বিগ বেন এবং ম্যানচেস্টারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে তারা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পরিচয় ও সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়েও রূপা হক বলেন, গত কয়েক দশকে প্রবাসীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সত্তরের দশকের নানা বাধা পেরিয়ে বর্তমান প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রেখেই ব্রিটিশ সমাজের মূলধারায় সমন্বিত হতে পেরেছে।
নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে রসাত্মক ভঙ্গিতে বক্তব্য শেষ করেন রূপা হক। তিনি বলেন, ‘একটি মেয়েকে বাংলাদেশ থেকে বের করে আনা সম্ভব, কিন্তু সেই মেয়েটির ভেতর থেকে বাংলাদেশকে কখনো বের করে আনা সম্ভব নয়।’
আ/আ













