কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
ছবি : প্রতিনিধি
দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান আসছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হবে- কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ভৈরবের চণ্ডীবের জেলেপাড়ার নিম্ন আয়ের মানুষের এলাকায় উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ভৈরবে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি কেনাবেচাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে তার বা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
লাযুক্ত জায়গা-জমি কেনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এটি ঠিক নয়। আপনারা যারা দায়িত্বে আছেন, নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিন।
তিনি আরও বলেন, আপনারা ঢাকার রাড্ডার ঘটনা দেখেছেন। সেখানে কোনো অপরাধীকে প্রধানমন্ত্রী ছাড় দেননি। তাই নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনারা জায়গার ব্যবসা করেন, সেটা ভালো। তবে কারও অংশীদারের ভেজাল বা বিরোধপূর্ণ জায়গা কিনবেন না। এতে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলার সৃষ্টি হয়।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামনে কিন্তু দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান আসছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হবে। এমন কোনো কাজ করবেন না, যাতে আমার ও দলের দুর্নাম হয়। আমি কিন্তু কাউকে ছাড় দেব না।
মাদক নির্মূলে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সংসদে আইন সংশোধন করে মাদক ব্যবসায়ীদের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান করা হবে।
তিনি বলেন, কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে তার কাছে মাদক আছে কি না, তা ডোপ টেস্ট ও ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে।
দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করতে বিভিন্ন পক্ষ সক্রিয় রয়েছে দাবি করে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে।
এর আগে ভৈরবের চণ্ডীবের দক্ষিণপাড়া এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি পরিবারের প্রত্যেককে ৩৬ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তার চেক, দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।













